মার্চ ৫, ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ র্যাংকিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষার পরিবেশ, প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত ফলাফলের মতো নির্দিষ্ট কিছু সূচকের ওপর ভিত্তি করে এই মান যাচাই করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই নতুন ব্যবস্থার কথা জানান।
রাজধানীর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। সভায় অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সুশাসন, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং সঠিক তদারকি নিশ্চিত করা বর্তমানে সময়ের দাবি। এই র্যাংকিং পদ্ধতি চালু হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে, যা পরোক্ষভাবে সামগ্রিক শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তিনি অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে তাদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। শিক্ষা খাতে যেকোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম প্রতিরোধে তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার করার ওপর তিনি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মনে করেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সরাসরি উপকৃত হবে।ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে মন্ত্রী বলেন যে, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকাকালীন শিক্ষকদের কল্যাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
তিনি শিক্ষকদের জন্য ৫০ শতাংশ বেতন চালু করার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অডিট বা নিরীক্ষা ব্যবস্থার সূচনা করেছিলেন। এই পদক্ষেপটি শিক্ষা প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় আজও একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে প্রশাসনিক কাজে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
একই সভায় বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সরকারি কর্মকর্তাদের মিতব্যয়ী হওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা দাপ্তরিক কাজে কঠোরভাবে পালনের আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে অফিসিয়াল কাজে গাড়ি শেয়ারিং এবং এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখার বিষয়ে তিনি সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন। অহেতুক অপচয় রোধ করে সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন