এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম
অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ও উপমহাদেশের রাজনীতির প্রবাদপ্রতিম পুরুষ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কাল সোমবার ২৭ এপ্রিল এই মহান নেতার মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হবে। এ উপলক্ষে আজ রোববার রাতে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন যে, অবিভক্ত বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে বাংলাদেশ যে কজন ক্ষণজন্মা নেতা পেয়েছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক।
এই মহান নেতার মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে শেরে বাংলা এই উপমহাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন। তাঁর সেই বলিষ্ঠ ও বিচক্ষণ নেতৃত্ব আজও এ দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।
এ কে ফজলুল হক ছিলেন বাংলার অবহেলিত ও নিপীড়িত কৃষক সমাজের পরম বন্ধু। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে স্মরণ করেন যে, শেরে বাংলাই প্রথম উপলব্ধি করেছিলেন বাংলার রাজনীতি ও অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। তাঁর অসাধারণ দূরদর্শিতা ও অন্তর্দৃষ্টির ফলেই কৃষক সমাজের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি তৎকালীন মূলধারার রাজনৈতিক কাঠামোয় স্থান পেয়েছিল। বিশেষ করে ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কৃষক-শ্রমিকবান্ধব বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়নে অনন্য ভূমিকা পালন করেন।
শিক্ষার প্রসারেও শেরে বাংলার অবদান ছিল অবিস্মরণীয়। সমাজের প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। আবুল কাশেম ফজলুল হক শুধু কৃষক সমাজের নেতাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের একজন অবিসংবাদিত অভিভাবক। তাঁর রাজনৈতিক আপসহীনতা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর মমতা তাঁকে সর্বভারতীয় রাজনীতির এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল।
শেরে বাংলার রাজনৈতিক দর্শন বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে শেরে বাংলার জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই মহান জাতীয় নেতার প্রয়াণ দিবসে দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে শেরে বাংলার শোকসন্তপ্ত আদর্শিক অনুসারী ও দেশবাসীকে তাঁর দেখানো পথে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন