শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

একবারের জ্বালানি দিয়েই দেড় বছর মিলবে বিদ্যুৎ

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ০১:০৮ পিএম

একবারের জ্বালানি দিয়েই দেড় বছর মিলবে বিদ্যুৎ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়াম সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর অভিজাত তালিকায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করল। দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য এই দিনটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই কেন্দ্রের প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম বান্ডেল প্রয়োজন হবে। প্রতিটি বান্ডেলে ১৫টি করে ইউরেনিয়াম পেলেটসমৃদ্ধ রড থাকে। 

কর্তৃপক্ষ আগেই ১৬৮টি বান্ডেল সংগ্রহ করে রেখেছিল, যার মধ্যে ১৬৩টি চুল্লিতে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং বাকি ৫টি জরুরি প্রয়োজনের জন্য ব্যাকআপ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

এই বিপুল সংখ্যক বান্ডেল চুল্লিতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নিখুঁতভাবে স্থাপন করতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই শুরু হবে মূল নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন তাপ দিয়ে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হবে এবং সেই বাষ্পের প্রচণ্ড চাপের মাধ্যমে টারবাইন ঘুরিয়ে উৎপাদিত হবে কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ। পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সক্ষমতা। প্রথাগত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো একে তেল, গ্যাস বা কয়লার ওপর প্রতি মুহূর্তে নির্ভর করতে হবে না। একবার পূর্ণ মাত্রায় জ্বালানি লোড করা হলে তা দিয়ে টানা দেড় বছর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এরপর প্রতি দেড় বছর অন্তর এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি পরিবর্তন করলেই কেন্দ্রটি পুনরায় পূর্ণ শক্তিতে সচল রাখা যাবে। এতে করে দেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পরপরই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে না। লোডিং শেষ হওয়ার পর সুরক্ষার স্বার্থে কয়েক শতাধিক সূক্ষ্ম কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-এর নিয়ম মেনে প্রতিটি ধাপ যাচাই করা হবে। সবকটি ধাপ সফলভাবে শেষ হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে রূপপুরের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলসহ পুরো দেশে লোডশেডিংয়ের সমস্যা অনেকখানি হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।