শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণ পরিশোধে ২৮ বছর সময় দিচ্ছে রাশিয়া

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণ পরিশোধে ২৮ বছর সময় দিচ্ছে রাশিয়া

নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দৃশ্য।

রাশিয়া থেকে নেওয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণ পরিশোধ করতে হবে ২৮ বছরের মধ্যে। প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থই ঋণ হিসেবে দিচ্ছে রাশিয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ ৬ টাকা ধরা হলেও বর্তমানে তা ১২ টাকার কাছাকাছি হতে পারে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে এখানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্যবহৃত তৃতীয় প্রজন্মের রি-অ্যাক্টর প্রযুক্তিতে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। এই কেন্দ্রটির আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ৬০ বছর। 

তবে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এটি আরও ৩০ বছর পর্যন্ত চালু রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এই প্রকল্প কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বরং দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও দক্ষ জনবল তৈরিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি মূলত ইউরেনিয়াম থেকে তৈরি হয়। প্রথমে ইউরেনিয়াম অক্সাইড দিয়ে ছোট ট্যাবলেটের মতো দানা বা প্যালেট বানানো হয়। এমন অনেক দানা প্রায় ৪ মিটার দীর্ঘ ধাতব নলের ভেতর সাজিয়ে তৈরি হয় জ্বালানি রড। নির্দিষ্ট কাঠামোয় অনেক রড একসঙ্গে যুক্ত করে জ্বালানি বান্ডেল বা ফুয়েল অ্যাসেম্বলি তৈরি করা হয়। রূপপুরে প্রতিটি বান্ডেলে ৩১২টি জ্বালানি রড রয়েছে। মোট ১৬৪টি বান্ডেল দেশে আনা হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম ইউনিটে ১৬৩টি ব্যবহৃত হবে।

রি-অ্যাক্টরের ডিজাইন অনুযায়ী, এই ১৬৩টি জ্বালানি বান্ডেল কোরে স্থাপন করতে সময় লাগবে ৩০ দিন। জ্বালানি লোডিং শেষে শুরু হবে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ পর্যায়। এই ধাপে নিউক্লিয়ার ফিশন রি-অ্যাকশন ঘটানো হবে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রায় ৩৪ দিন সময় লাগবে। পরীক্ষা শেষে রি-অ্যাক্টরের পাওয়ার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করা হবে। পাওয়ার ৩ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।

সব মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস। নির্মাণ চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছরের জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া। এরপর বাংলাদেশ ইউরেনিয়াম আমদানি করবে। ব্যবহৃত তেজস্ক্রিয় জ্বালানি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নজরদারিতে বিশেষ নিরাপত্তায় রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কার্বন নিঃসরণ কম হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এটি সহায়ক হবে।