রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আগামী বাজেটে বাড়ছে বয়স্ক ও বিধবাসহ নানা সামাজিক ভাতা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১২, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

আগামী বাজেটে বাড়ছে বয়স্ক ও বিধবাসহ নানা সামাজিক ভাতা

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের প্রান্তিক, দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন করে কয়েক লাখ মানুষকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সরকার তাদের কল্যাণমুখী রূপরেখা তুলে ধরবে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৬১ লাখ বয়স্ক নাগরিক মাসিক ৬৫০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন। 

আগামী অর্থবছরে এই উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৬২ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ৯০ বছরের কম বয়সি বয়স্করা মাসিক ৭০০ টাকা ভাতা পাবেন। অন্যদিকে ৯০ বছর বা তদূর্ধ্ব ২ লাখ ৫ হাজার প্রবীণ নাগরিকের জন্য মাসিক ১ হাজার টাকা ভাতার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে তারা মাসিক ৬৫০ টাকা পেলেও আগামী অর্থবছর থেকে তা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হবে। পাশাপাশি ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সি ২৫ হাজার নারী মাসিক ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। এই খাতে সরকারের বরাদ্দ বাড়িয়ে ২ হাজার ৪৫৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে।প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার ব্যক্তি মাসিক ৯০০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। আগামী বাজেটে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৬ লাখ করা হচ্ছে। মূল ভাতার পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকলেও ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রতিবন্ধীরা মাসিক ১ হাজার টাকা করে পাবেন।

শিক্ষা উপবৃত্তির ক্ষেত্রেও কিছুটা স্বস্তি আসছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চতর স্তর পর্যন্ত সব পর্যায়ের শিক্ষার্থীর ভাতা মাসিক ৫০ টাকা করে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাবেন ৯৫০ টাকা, মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা ১ হাজার টাকা এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ১ হাজার ১০০ টাকা। উচ্চতর স্তরের শিক্ষার্থীরা মাসিক ১ হাজার ৩৫০ টাকা করে পাবেন।

নতুন বাজেটের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। এর আওতায় নারীপ্রধান প্রতিটি পরিবার মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পাবে। সরকার ধাপে ধাপে এই কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে। চলতি অর্থবছরসহ আগামী পাঁচ বছরে এই প্রকল্পে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকার এখন বড় মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে সামাজিক সুরক্ষা, কর্মসংস্থান এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধিমুখী কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।