রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

এপ্রিলে ৫২৭ সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১০ জন নিহত: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

জাতীয় ডেস্ক

মে ১৩, ২০২৬, ০১:২৫ পিএম

এপ্রিলে ৫২৭ সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১০ জন নিহত: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

এপ্রিলে সড়কে প্রাণ গেল ৫১০ জনের।

বাংলাদেশে গত এপ্রিল মাসে ৫২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১০ জন নিহত এবং ১২৬৮ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৫৪টি দুর্ঘটনায় ৪৯ জন এবং নৌ-পথে ৫টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হন। সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে সর্বমোট ৫৮৬টি দুর্ঘটনায় ৫৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।বুধবার (১৩ মে) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। 

সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সই করা এই প্রতিবেদনটি তাদের দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে ১৩৫টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত এবং ২৬৩ জন আহত হয়েছেন। 

অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে। এই বিভাগে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৬৪ জন আহত হন।সড়ক দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের পরিচয় বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিহতদের মধ্যে ৯৯ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৮২ জন পথচারী, ৫৬ জন শিক্ষার্থী এবং ৫২ জন নারী রয়েছেন। 

এছাড়া ৪৭ জন শিশু, ২৫ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫ জন শিক্ষক, ১ জন সাংবাদিক, ১ জন আইনজীবী ও ৮ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে একজন পুলিশ, একজন বিমানবাহিনী এবং দুইজন বিজিবি সদস্য রয়েছেন।দুর্ঘটনার স্থান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট দুর্ঘটনার ৩৮.৫১ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া ৩১.৪৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২২.৯৬ শতাংশ ফিডার রোডে ঘটেছে। ঢাকা মহানগরীতে ৫.৬৯ শতাংশ এবং চট্টগ্রাম মহানগরীতে ০.৭৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে। রেলক্রসিং এলাকায় দুর্ঘটনার হার ছিল ০.৫৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি তাদের পর্যবেক্ষণে দুর্ঘটনার বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মহাসড়কে মোটরসাইকেল এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল। জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং না থাকা এবং পর্যাপ্ত সড়কবাতির অভাবকেও দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া অদক্ষ চালক, বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং উল্টোপথে গাড়ি চালানো দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংগঠনটি বেশ কিছু সুপারিশ পেশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং ভাড়া আদায়ে স্মার্ট পদ্ধতি চালু করা। জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতের বেলা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা এবং মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশা আমদানি বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্যান্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া এবং বিআরটিএ অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুলের প্রশিক্ষণ ছাড়া লাইসেন্স প্রদান বন্ধ করা। পরিবহন সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মহাসড়কে সার্ভিস লেন নির্মাণ এবং নিয়মিত রোড সেফটি অডিট করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে একটি দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট চালু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।