জুন ১, ২০২৬, ১০:৪০ এএম
ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে অভিভাবকহীন অবস্থায় থাকা দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে নতুন জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন বা ইসি বর্তমান সরকারের বিশেষ চাহিদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই বিশাল নির্বাচনী কর্মযজ্ঞের প্রাথমিক রূপরেখা চূড়ান্ত করার কাজ করছে।
তবে ঠিক কোন স্তর দিয়ে এই স্থানীয় নির্বাচন শুরু হবে, তা নিয়ে কমিশন এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ নির্ভরযোগ্য নীতি-নির্ধারণী সূত্র থেকে এই আসন্ন নির্বাচনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আপাতত পৌরসভা বা উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ভাবছে না, বরং প্রথম ধাপে সিটি করপোরেশন অথবা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ শুরু করতে চায়।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস থেকে ধাপে ধাপে দেশের পাঁচ ধরনের স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করার সরকারি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। সরকারের এই বিশেষ চাহিদার সাথে মিল রেখে ইসি ইতিমধ্যেই তাদের আইন ও বিধিমালা সংস্কার কমিটির মাধ্যমে বিধিমালার ব্যাপক সংশোধনীর কাজ শুরু করেছে।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং একটি রক্তপাতহীন সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে বর্তমান কমিশন আইনি কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে।প্রস্তাবিত নতুন বিধিমালায় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ব্যয়বহুল ইভিএম পুরোপুরি বাদ দিয়ে সনাতন ব্যালট পেপারে ভোট নেওয়ার জোরালো চিন্তা করা হচ্ছে।
এছাড়া প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোটারের সমর্থনসূচক তালিকা জমার নিয়ম বাতিল এবং প্রার্থীদের দেশের পাশাপাশি বিদেশের সম্পদের তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও যুক্ত হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদসহ প্রায় সব স্থানীয় প্রতিষ্ঠানই নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় চরম প্রশাসনিক স্থবিরতা ও সাধারণ জনগণের ভোগান্তির মধ্য দিয়ে চলছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন