রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মোটরসাইকেলের কর দিতে হবে না তবে টিআইএন বাধ্যতামূলক

জাতীয় ডেস্ক

জুন ১১, ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম

মোটরসাইকেলের কর দিতে হবে না তবে টিআইএন বাধ্যতামূলক

দেশের মধ্যবিত্ত ও তরুণ বাইকারদের বড় ধরনের আর্থিক স্বস্তি দিয়ে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেট প্রস্তাবনায় মোটরসাইকেল মালিকদের জন্য বিশেষ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে যেকোনো মোটরসাইকেলের প্রাথমিক রেজিস্ট্রেশন অথবা নিয়মিত রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনো কর পরিশোধ করতে হবে না। 

তবে একই সঙ্গে উচ্চ ক্ষমতার অর্থাৎ ১৫০ সিসি বা তার ওপরের সিসির মোটরসাইকেলগুলোর নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন বাধ্যতামূলক করার কড়া প্রস্তাব আনা হয়েছে।বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির নতুন পথযাত্রায় আগামী অর্থবছরের জন্য সর্বমোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল মেগা বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। 

বাজেট প্রস্তাবনা পাঠকালে অর্থমন্ত্রী বলেন যে অভ্যন্তরীণ রাজস্বের আওতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৫০ সিসি ও তদূর্ধ্ব সিসির বিলাসবহুল মোটরসাইকেলের নতুন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে টিআইএন সার্টিফিকেট জমা দেওয়া সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তবে সাধারণ ও স্বল্প আয়ের বাইকারদের কথা বিবেচনা করে মোটরসাইকেল মালিকদের পূর্বের মতো রেজিস্ট্রেশন বা নবায়নের সময় বাড়তি অগ্রিম করের বোঝা থেকে সম্পূর্ণ রেহাই দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় বাজারে মোটরসাইকেলের সামগ্রিক ব্যবহার ও বেচাকেনা আরও গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৫তম বাজেট এবং বর্তমান নতুন রাজনৈতিক সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার জীবনের প্রথম বাজেট উপস্থাপন। দেশের ক্রমবর্ধমান গণপরিবহন সংকটের মাঝে এই কর মওকুফের সিদ্ধান্ত মোটরসাইকেল চালকদের বড় ধরনের সুরাহা দেবে। তবে উচ্চ সিসির বাইকে টিআইএন চালুর মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ করা অনেক সহজ হবে বলে মনে করছে অর্থ বিভাগ।নতুন এই কর নীতি আগামী ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে শুরু করবে। বিআরটিএর সব আঞ্চলিক কার্যালয়ে এই নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।