রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বাবা হারানো এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকনকে সহায়তার ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

জুলাই ২৩, ২০২৬, ১১:১৫ এএম

বাবা হারানো এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকনকে সহায়তার ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

ছবি - সংগৃহীত

বাবার আকস্মিক মৃত্যুর শোক বুকে চেপে এবং জীবিকার টানে রাতে এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন শেষে সকালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা বাগেরহাটের সেই সংগ্রামী শিক্ষার্থী ইকন দাড়িয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন সরকার। অভাবের তাড়নায় পরীক্ষায় বিরতি না দিয়ে দায়িত্ব পালনের এই হৃদয়বিদারক খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তার পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগে অবসান ঘটতে চলেছে এক কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড়ানো তরুণের অনিশ্চয়তার।গত বুধবার রাতে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী ফারহান ইশতিয়াক সরাসরি টেলিফোনে ইকন দাড়িয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেন। চলমান উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার এই সংকটময় সময়ে ইকনকে যেন কোনোভাবেই আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে চাকরি করতে না হয়, সে জন্য আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে তাকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। পাশাপাশি বর্তমান এইচএসসি পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হওয়ার পর তার উচ্চশিক্ষা এবং ভবিষ্যতের সম্পূর্ণ পড়ালেখার ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

গত একুশ জুলাই ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ইকন ও তার ভাইয়ের একমাত্র ভরসা বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। বাদ জোহর জানাজা শেষে গোপালগঞ্জে দাফন সম্পন্ন করার পরদিনই রাতে সংসারের তাগিদে বাগেরহাট শহরের রেলরোড এলাকার কৃষি ব্যাংকের টাকা উত্তোলন বুথে রাতের শিফটে নিরাপত্তাকর্মীর কাজে যোগ দিতে হয়েছিল তাকে। মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা বাবার সড়ক দুর্ঘটনায় বড় ভাই মানসিক ভারসাম্য হারানোর পর পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হয়ে ওঠেন এই তরুণ। বাগেরহাটের খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের এই শিক্ষার্থীর এমন অদম্য সংগ্রাম ও দায়িত্ববোধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই সহযোগিতার বার্তা পাওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ইকন জানিয়েছেন যে তিনি সামনের দিনগুলোতে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে একজন অসহায় অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানোর এই ঘটনা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি করেছে। প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে চলা এই তরুণ এখন নিজের স্বপ্ন পূরণের নতুন আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন।