রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সয়াবিন তেলে মিলল বিপুল মাইক্রোপ্লাস্টিক

জাতীয় ডেস্ক

জুলাই ২৯, ২০২৬, ১২:০৭ এএম

সয়াবিন তেলে মিলল বিপুল মাইক্রোপ্লাস্টিক

Ai - ছবি

দেশের বাজারে প্রচলিত বোতলজাত ও খোলা সয়াবিন তেলে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন একদল গবেষক। ঢাকার বিভিন্ন বাজার থেকে সংগৃহীত সয়াবিন তেলের নমুনা পরীক্ষা করে প্রতি লিটারে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়ার তথ্য আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের গবেষকদের এই যৌথ গবেষণা খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা সয়াবিন তেলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পাওয়া গেছে।গবেষকরা রাজধানীর তেজগাঁও, উত্তরা ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বিভিন্ন সুপারশপ ও খোলা বাজার থেকে তেলের নমুনা সংগ্রহ করে আধুনিক রাসায়নিক পদ্ধতিতে তা বিশ্লেষণ করেন। 

গবেষণায় সয়াবিন তেলের নমুনায় পলিইথিলিন, পলিপ্রোপিলিন, পলিইউরেথেন ও নাইলনসহ মোট ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমার শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ভোজ্যতেলে পলিইউরেথেন ও নাইলনের উপস্থিতি বিশ্ব গবেষণায় প্রথমবারের মতো নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানানো হয়। খোলা তেলে প্রতি লিটারে গড়ে প্রায় ৫৯ হাজার ৭৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে, যা বোতলজাত তেলের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ২৪ গুণ বেশি।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণাগুলো মানবদেহে প্রবেশ করছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব শিশুদের ক্ষেত্রে বহুগুণ বেশি গুরুতর। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন গড়ে ১৭টি প্লাস্টিক কণা গ্রহণ করলেও শিশুরা প্রতিদিন প্রায় ৭৭টি কণা গ্রহণ করছে। গবেষক দলের প্রধান ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মুহাম্মদ তারেক জানান যে, দীর্ঘমেয়াদে এই কণাগুলো গ্যাস্ট্রোঅন্ত্রের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং কোষের ক্ষয়সাধন করতে পারে।খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে প্লাস্টিক দূষণ রোধে কঠোর নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।