আগস্ট ২৫, ২০২৬, ১২:০৮ এএম
দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় ও সংবেদনশীল শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করা না গেলে সামনের দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধের দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে মান নিয়ন্ত্রণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রতিটি ধাপে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে এক কঠিন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করা হয়।বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি এবং স্বাস্থ্য বিটের সাংবাদিকদের যৌথ উদ্যোগে ‘ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে সরকারি হিসেবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নির্দিষ্ট থাকলেও কারখানা পর্যায়ে জেনারেটর, ইউপিএস ও ডিজেল ব্যাকআপ ব্যবহারের ফলে প্রকৃত ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। ওষুধি পণ্য উৎপাদনের প্রক্রিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গেলে তা বন্ধ করা সম্ভব নয়, যার ফলে জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে গিয়ে উৎপাদকদের বাড়তি খরচ গুণতে হচ্ছে।
এ ছাড়া ওষুধের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বিভিন্ন পরীক্ষাগারে মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং উচ্চমূল্যের রেফারেন্স স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহারের কারণে সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের এই বর্ধিত ব্যয় দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মুনাফা থেকে মেটানো কোনোভাবেই সম্ভবপর হবে না বলে সতর্ক করা হয়েছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত উৎপাদন খরচ সামঞ্জস্য করার জন্য ওষুধের দাম বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প অবশিষ্ট থাকবে না বলে সংশ্লিষ্টরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন