সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে অতিরিক্ত পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন বিনিয়োগ আনতে সরকার ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ যৌথভাবে কাজ করবে। শনিবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে সংগঠনটির ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই তথ্য জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এখন ১৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল বাণিজ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তারা প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান ও বৈশ্বিক মানদণ্ড বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে। সংগঠনটির সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে বাংলাদেশে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি পুঁজি বিনিয়োগ করেছে। দেশের সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ রাজস্বে তাদের অবদান এখন ২০ শতাংশের বেশি, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বিদেশি ব্যবসায়ীদের আস্থার প্রমাণ।
সম্প্রতি মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করে আগামী পাঁচ বছরে নতুন করে আরও পাঁচ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, শিল্প ও বিনিয়োগ বিকাশে সরকার সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেবে। বিনিয়োগকারীরা যেকোনো বাস্তবমুখী সমস্যা সরাসরি উত্থাপন করলে তা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি কর্টেভা বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করেন, যাদের বাণিজ্যিক লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতা সরকারি হস্তক্ষেপে এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, দক্ষ তরুণ জনগোষ্ঠী এবং সম্প্রসারিত অভ্যন্তরীণ বাজারের কারণে বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক বিনিয়োগের অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্র। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন ও আর্থিক খাতে ব্যাপক সম্ভাবনার পাশাপাশি নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ করা, ডিজিটাল প্রক্রিয়ার বিস্তার এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আরও কার্যকর পরিবেশ গড়ে তোলার কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল ও সহসভাপতি আলা উদ্দিন আজাদসহ শীর্ষ ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন। বাণিজ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে আগামী দিনগুলোতে আধুনিক মার্কিন প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সুবিধা আরও বাড়বে।
তথ্যসূত্র: বাসস

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন