সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
৭৭ ধারা কার্যকরের জোর দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম এবং শতাধিক মাদ্রাসার প্রিন্সিপালসহ ৬০০ জন বিশিষ্ট আলেম। সমকামী সহিংসতা প্রতিরোধ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই আহ্বান জানান। বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন `মূল্যবোধ আন্দোলন`-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন। সাভারের একটি মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর ওপর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বিবৃতিতে।
আলেমরা উল্লেখ করেন, নৈতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অপরাধ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলে। ইসলামি বিধানে সব ধরনের অনৈতিক যৌন সম্পর্ক, প্রকৃতিবিরুদ্ধ আচরণ ও সমকামিতাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ধরনের অপকর্মে জড়িতদের সঙ্গে মাদ্রাসার পবিত্র পরিবেশ ও শিক্ষার কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না। আইন অকার্যকর থাকলে সামাজিক অবক্ষয় ঠেকানো অসম্ভব। বিভিন্ন গবেষণার বরাত দিয়ে বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সমকামী ও উভকামীদের মাধ্যমে শিশুদের নিপীড়িত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
বিগত কয়েক বছর ধরে বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত কিছু এনজিওর কার্যক্রম ও অনলাইন অ্যাপের কারণে এই প্রবণতা বিস্তার লাভ করেছে বলে অভিযোগ করেন তারা। অন্যদিকে দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারাকে নিষ্ক্রিয় করে রাখায় এই সংকট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ঢুকে পড়েছে। ইংল্যান্ডে ১৫৩৩ সালে রাজা অষ্টম হেনরির আমলে পাস হওয়া `বাগেরি অ্যাক্ট`-এর মূল ধারণার ওপর ভিত্তি করে ব্রিটিশরা তাদের অর্ধশতাধিক উপনিবেশে ৩৭৭ ধারার সংস্করণ চালু করেছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনেও প্রকৃতিবিরুদ্ধ অপরাধের সুস্পষ্ট শাস্তির বিধান রয়েছে, যার কঠোর বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
দেশের ৯২ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারা জানান, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা বা মেস যেখানেই এ ধরনের ঘটনা ঘটুক, অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। সাভারের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের দাবি জানানো হয়। এই বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা মূল্যবোধ ডট কম নামের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মাদ আবদুল মালেক, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, ড্যাফোডিল ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর মোখতার আহমাদ, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি সাইফুল ইসলাম, মাওলানা হাসান জামিল, আব্দুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ, মাওলানা আবুল বাশার, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মুফতী মাসউদুল করীম, ড. হাফেজ এবিএম হিজবুল্লাহ, ড. মুফতি ইউসুফ সুলতান, মাওলানা তাহমীদুল মাওলা, রুহুল আমীন সাদী, মুফতি রেজাউল কারীম আবরার, মুফতি মুহাম্মাদ শামছুদ্দোহা আশরাফী, আবদুল্লাহ আল ফারুক, মুফতি সালমান আহমদ, মুফতি সাঈদ আহমাদ, মুফতি আরিফ জাব্বার কাসেমী, মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, মুফতি ইরফান জিয়া এবং মুফতি আবু মুহাম্মাদ রাহমানীসহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় আলেম।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন