সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকাল পৌনে ছয়টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এ রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, শীর্ষ রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তাসহ মোট ৩৫ জন সফরসঙ্গী রয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এই সামগ্রিক সফরসূচি ও বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী বাইশ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত বিশ্বনেতাদের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেবেন তারেক রহমান। এরপর তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে সাধারণ পরিষদের ঐতিহাসিক উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন। ওই দিন সন্ধ্যায় বিশ্বনেতা ও তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সহায়তা সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন সরকারপ্রধান।
এরপর তিনি বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা শীর্ষক এক বহুপক্ষীয় উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেবেন, যার যৌথ আয়োজক হিসেবে রয়েছে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন। একই দিন বিকেলে জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বানে আয়োজিত জলবায়ু সংক্রান্ত এক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন তিনি। সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে আগামী চব্বিশ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী এই মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তাঁর জীবনের প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণ। ভাষণের আগে ওই দিন সকালে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় দেশগুলোর অস্তিত্ব সংকটের ওপর আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করবেন তিনি। অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যৌথ আমন্ত্রণে এই বিশেষ বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন তিনি। কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্যোগে আয়োজিত দুটি আন্তর্জাতিক সাইড ইভেন্টে প্রধান ভূমিকা রাখবেন প্রধানমন্ত্রী।
২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সাইড ইভেন্টে অংশ নিয়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ চাইবেন তিনি। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং দক্ষ মিডওয়াইফারি সেবা সংক্রান্ত অন্য একটি আন্তর্জাতিক সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে সরকারের স্বাস্থ্য পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। সাধারণ অধিবেশনের মূল আনুষ্ঠানিকতার ফাঁকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন তারেক রহমান।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সসহ ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর পৃথক দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এসব শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলো প্রাধান্য পাবে। সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর সাথে একান্ত সাক্ষাতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বিমান বহর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাব্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে তৎপরতা চলছে। নিউইয়র্কের যাবতীয় রাষ্ট্রীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করে আগামী পঁচিশ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন