সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রেখে একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে এক অনন্য আন্তর্জাতিক ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলায় বক্তব্য দেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি এই ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেলে সাধারণ পরিষদ হলে তিনি এই ভাষণ প্রদান করেন।
জাতিসংঘের দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে কখনো একই পরিবারের তিন সদস্য—বাবা, মা ও সন্তান রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে সাধারণ পরিষদের এই বিশ্বমঞ্চে ভাষণ দেননি। পারিবারিক সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ব দরবারে নিজের মাতৃভাষা বাংলায় কোটি কোটি বাংলাদেশির আশা-আকাঙ্ক্ষা, মানবাধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক চেতনার কথা বলিষ্ঠ কণ্ঠে তুলে ধরেন।
এই পারিবারিক ইতিহাসের সূচনা করেছিলেন তাঁর বাবা। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই ভাষণে তিনি ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার ক্রমবর্ধমান ব্যবধান, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তিনি শান্তি, মানবিক মর্যাদা, সুবিচার এবং পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে একটি টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এর ১৩ বছর পর পরিবারের দ্বিতীয় সদস্য হিসেবে বিশ্বমঞ্চে বক্তব্য দেন তাঁর মা। ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাষণ দেন বেগম খালেদা জিয়া। জাতিসংঘের দাপ্তরিক নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তিনি মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদে ভাষণ প্রদান করেন। এর মধ্যে তিনি ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সভা, ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশন চলাকালে দুটি পৃথক আনুষ্ঠানিক সভায় বক্তব্য রেখেছিলেন।
জাতিসংঘের বর্তমান অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে এই মুহূর্তে তিনি কিছুটা স্মৃতিকাতর। এই মঞ্চে দাঁড়িয়েই তাঁর পিতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের পক্ষে বক্তব্য রেখেছিলেন। একইভাবে আজ তিনিও তাঁর দেশ এবং জনগণের স্বার্থের পক্ষে এবং একটি শান্তিময় বিশ্ব সমাজের প্রত্যাশায় বিশ্বনেতাদের সামনে দাঁড়িয়েছেন।
বক্তব্যের মূল অংশে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি ও জাতীয় অগ্রাধিকারগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। এতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীল নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, বহুপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবিক বিভিন্ন বিষয়াবলি এবং দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন