রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,
তারুণ্যের ক্ষমতায়ন

কর্মসংস্থান বাড়াতে ডিসেম্বরে আসছে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম

কর্মসংস্থান বাড়াতে ডিসেম্বরে আসছে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ

তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে আগামী ডিসেম্বরে দেশজুড়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। রোববার দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী তরুণ সমাজের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। তারুণ্যের সঠিক ক্ষমতায়ন ও মেধার সর্বোচ্চ বিকাশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিই মূল চাবিকাঠি। বাংলাদেশের এই বিশাল জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে আগামী ডিসেম্বরে ঢাকা থেকে এই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীতে এটি পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন অপরিহার্য।

এই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ দিতে গত ছয় মাস ধরে শিল্প খাত, শিক্ষাঙ্গন, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শ করা হয়েছে। সর্বসম্মত নীতিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ডিসেম্বরে এই কার্যক্রম শুরু হবে।

এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মূল কাজ হবে শ্রমবাজারের চাহিদা ও জোগানকে এক জায়গায় সংযুক্ত করা। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে তাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা এবং মূলধারার শিক্ষার বাইরে থাকা যুবসমাজসহ নতুন স্নাতকদের সরাসরি চাকরির বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের স্থানীয় পর্যায়ের শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সংস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ নিরূপণ করা হবে। একদিকে কর্মক্ষম যুবশক্তির দক্ষতা ও যোগ্যতার তথ্যভাণ্ডার থাকবে, অন্যদিকে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাজের চাহিদার হিসাব থাকবে।

এই দুইয়ের সমন্বয়ে তৈরি হবে একটি একীভূত জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। এর পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশব্যাপী নিয়মিত ক্যারিয়ার ফেয়ার আয়োজন করা হবে। জেলা পর্যায়ে নিয়মিত এই মেলার আয়োজনের মাধ্যমে শিল্প খাত ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্বের অবসান ঘটিয়ে শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে একটি পূর্ণাঙ্গ এমপ্লয়মেন্ট ওরিয়েন্টেড ইকোসিস্টেম বা কর্মসংস্থানমুখী পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।

এই উদ্যোগের আওতায় চাকরির বাজারে প্রবেশকারীদের জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাক্ষাৎকার মোকাবিলার মতো প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এজন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে রেফারেলের মাধ্যমে প্রার্থীদের যুক্ত করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহ্দী আমিন জানান, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নিবন্ধনের মাধ্যমে বিদেশে গমনেচ্ছু তরুণ-তরুণীদের প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ পেতে সহায়তা করা হবে। চাকরিদাতা ও চাকরিপ্রার্থী উভয় পক্ষই এই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করবেন। আন্তর্জাতিক নিয়োগদাতারা সরাসরি নিবন্ধন না করলেও যেসব তরুণ বিদেশে যেতে চান, তাঁদের নিবন্ধনের পর সংশ্লিষ্ট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

যেকোনো তরুণ নিজের ক্যারিয়ার লক্ষ্য জানালে তাকে সঠিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া হবে। গত ৫ আগস্টের পর কলকারখানার পরিস্থিতি নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কিছু কারখানা যেমন বন্ধ হয়েছে, তেমনি নানা অপপ্রচারের মাঝেও বাস্তব সংখ্যাটি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। কিছু কারখানা বন্ধ হওয়ায় যেমন কর্মসংস্থান কমেছে, তেমনি আবার নতুন বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে এবং অনেক নতুন কারখানা চালু হচ্ছে। বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হচ্ছে।

আগামী ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম উদ্বোধনের সময়েই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও পথনকশা প্রকাশ করা হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সবার স্বার্থ রক্ষায় পুরো কাঠামোর সার্বিক কৌশল ও পদ্ধতি নিয়ে বর্তমানে কাজ চলছে। তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রাথমিক জোর দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে বেকার ভাতার বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে মাহ্দী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। সংবাদ ব্রিফিংয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার উপস্থিত ছিলেন।