রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

পরিবেশকে প্রভাবমুক্ত রেখে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২, ২০২৫, ০৪:২০ পিএম

পরিবেশকে প্রভাবমুক্ত রেখে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস দেশের সড়ক, রেল, বিমান ও নৌপথের সম্মিলিত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা অবশ্যই প্রকৃতি, পরিবেশ ও নদীকে কোনোপ্রকার নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত রেখে বাস্তবায়ন করতে হবে।

আজ রোববার (০২ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় “সেন্ট্রাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট সেক্টর মাস্টার প্ল্যান অব বাংলাদেশ” সংক্রান্ত প্রান্তিক মূল্যায়ন ও কৌশলগত পরিকল্পনা বিষয়ক এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সভাপতিত্বকালে প্রধান উপদেষ্টা এই আহ্বান জানান।বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা দেশের বর্তমান যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ‘খুবই হযবরল’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই হযবরল অবস্থায় রয়েছে, এটাকে দ্রুত শৃঙ্খলার মধ্যে আনা না গেলে পুরো ব্যবস্থাটা অর্থনীতির জন্য গলার ফাঁসে পরিণত হবে।

তিনি পরিবেশ রক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে বলেন, “আমাদেরকে এই কাজটা করতে হবে পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে। নদীর ওপর কোনো আঘাত করা যাবে না, পানিকে শান্ত রাখতে হবে, মনে রাখতে হবে পানি আমাদের জন্য বিরাট সম্পদ।”বৈঠকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে একটি প্রাথমিক কৌশলগত পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়, যা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

এই পরিকল্পনায় দেখানো হয়, কীভাবে দেশের বিদ্যমান রেলপথ, নৌপথ এবং সড়কপথের যথাযথ ব্যবহার, সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সামান্য সংস্কার ও সংযোজনের মাধ্যমে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা যায়।প্রধান উপদেষ্টা এই সমন্বিত পরিকল্পনার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই পরিকল্পনার ফলে প্রাথমিকভাবে একটি শক্তিশালী ধারণা পাওয়া গেল। এখন এটিকে বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পুরো পরিকল্পনাটি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে মাথায় রেখে করতে হবে এবং অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।বৈঠকে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ গ্রামীণ ছোট ছোট সংযোগ সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলকে জাতীয় কানেক্টিভিটির মধ্যে নিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দেন।

স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের কাজগুলোকে আরও পরিকল্পিত করতে মন্ত্রণালয়ে একটি ‘প্ল্যানার্স উইং’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ২০৩০ সালের মধ্যে চট্টগ্রামে চালু হতে যাওয়া নতুন তিনটি বন্দরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ ও কার্যকর করার বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাগণ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীগণ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।