রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নির্বাচন আয়োজনে সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে শঙ্কা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৯, ২০২৫, ১০:০৭ এএম

নির্বাচন আয়োজনে সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে শঙ্কা

আর মাত্র সাড়ে তিন মাস পরেই অনুষ্ঠিত হতে পারে বহু প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই তফসিল ঘোষণা হতে পারে, যার অর্থ দাঁড়ায় আর মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যেই অন্তর্বর্তী সরকারকে নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক ব্যবস্থা চূড়ান্ত করতে হবে। ড. ইউনূস নিজে একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন সাজিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, গত প্রায় চৌদ্দ মাসের অভিজ্ঞতার আলোকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে জনমনে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর একটি প্রায় বিধ্বস্ত প্রশাসনিক কাঠামো থেকে পুলিশ বাহিনীকে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। কিন্তু দেড় দশকের দলীয়করণে বাহিনীগুলোর পেশাদারিত্ব ও নৈতিক মনোবল ভেঙে পড়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি জনমনে তলানিতে ঠেকেছে, যা গুম ও গণহত্যার অভিযোগে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আদালতে নেওয়ার ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমের প্রতিক্রিয়াতেই স্পষ্ট। নৈতিক বল ও জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলা এই বাহিনীগুলো আগামী নির্বাচনে কতটা সাহস, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

দ্বিতীয় বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভারতে পলাতক সাবেক 'ফ্যাসিস্ট' সরকারের দোসরদের সম্ভাব্য সহিংসতা ও ষড়যন্ত্র। অভিযোগ রয়েছে, দিল্লির আশ্রয়ে থেকে শেখ হাসিনা এবং ভারতে পালিয়ে যাওয়া অন্যান্য রাজনীতিবিদ, পুলিশ, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা গত চৌদ্দ মাসে বাংলাদেশে নানা উপায়ে সহিংসতা সৃষ্টি করে সরকারকে অকার্যকর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশে থাকা তাদের সমর্থকরাও আসন্ন নির্বাচন ভণ্ডুল বা প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জুলাই বিপ্লবের পর বিপুল সংখ্যক চিহ্নিত অপরাধী ও দুর্নীতিবাজকে নিরাপদে দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিতে দেওয়াকে বর্তমান সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বিশাল ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সিরিজ অগ্নিকাণ্ডের পেছনেও এই পলাতক গোষ্ঠী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের হাত থাকতে পারে বলে অনেকে সন্দেহ পোষণ করেন। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন গোষ্ঠীর নিত্যনতুন দাবিনামা, যা সরকারকে প্রতিনিয়ত চাপে রাখছে। এসব বহুমুখী ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান ড. ইউনূসের সরকারের জন্য এক কঠিন পরীক্ষা হবে নিঃসন্দেহে।