নভেম্বর ১২, ২০২৫, ০৯:২২ পিএম
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বসেই বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পতনের নীলনকশা তৈরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দিল্লির অভিজাত লুটিয়েন্স বাংলো জোনে ভারত সরকারের দেওয়া।
একটি সুরক্ষিত বাড়িকে কার্যত ‘ওয়ার রুম’ হিসেবে ব্যবহার করে সেখান থেকেই তিনি দেশে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার নির্দেশ দিচ্ছেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলার রায় বা নির্দেশনার সম্ভাব্য তারিখ ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বড় ধরনের নাশকতার ছক কষা হয়েছে।
এই পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ার পরপরই রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অন্তত ৩৭ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।৪ ঘণ্টার গোপন বৈঠক ও উপস্থিত যারা: গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় শেখ হাসিনার দিল্লির বাসভবনে একটি উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা এবং সাবেক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। বৈঠকে অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন:
ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আকবর হোসেন।
ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
সাবেক এমপি ও নেতাদের মধ্যে ছিলেন—সাইফুল ইসলাম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, সাইমুম সরোয়ার কমল, আয়মন আকবর চৌধুরী বাবলু এবং ছোট মনির।
বৈঠকের ৩টি প্রধান এজেন্ডা: সূত্রমতে, বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়: ১. ‘গুম প্রসিকিউশন চার্জে’ দলের শীর্ষ নেতাদের অন্তর্ভুক্তি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণ। ২. আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সম্ভাব্য নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন ও নাশকতা জোরদার করা। ৩. ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা।
মা-মেয়ের তর্কাতর্কি: আন্দোলন ও নাশকতার এই কৌশল নিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের মতবিরোধের খবর পাওয়া গেছে। গত ৪ নভেম্বর পুতুল মাকে এ ধরনের তৎপরতা বন্ধ রেখে চুপ থাকার অনুরোধ করলে হাসিনা ক্ষিপ্ত হন। পুতুলের মতে, বৈঠকে উপস্থিত এই লোকগুলোর ভুল পরামর্শেই তার মায়ের এই পরিণতি হয়েছে। অন্যদিকে, হাসিনা মনে করেন, এদের দিয়েই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে।
অর্থ জোগান নিয়ে অসন্তোষ: নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থের জোগান নিয়ে পলাতক নেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি অনলাইনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মাহাবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম ও ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। সেখানে ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে প্রতিটি উপজেলা থেকে ঢাকায় লোক জড়ো করার নির্দেশ দেওয়া হলেও, খরচের টাকা কে দেবেন—তা নিয়ে নেতাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন