ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ০২:০২ এএম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ধর্মের অপব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার দিন শেষ হয়ে এসেছে। জাতীয় রাজনীতিতে এখনো ধর্মের নামে ভোট চাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ইসলামের দোহাই দিয়ে বা ধর্মের নাম ব্যবহার করে দেশের মানুষকে আর বিভাজিত করা যাবে না। যেমনটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে বিগত দিনে করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ যেমন আমাদের গর্বের ভিত্তি, তেমনি চব্বিশের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানও আমাদের অস্তিত্বের অংশ। এই দুই অর্জনই আমাদের, এখানে কোনো বিভাজন রেখা টানা চলবে না।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে আগ্রাসনবিরোধী যাত্রা পরবর্তী এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিগত পনেরো বছর ধরে আওয়ামী লীগ তাদের রাজনীতির মাধ্যমে মুজিববাদকে প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশকে কার্যত বিভাজিত করে রেখেছিল। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নিজেদের দলীয় সম্পদে পরিণত করেছিল। আমরা মনে করি, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অন্যতম ভিত্তি এবং এটি কোনো দলের একক সম্পত্তি হতে পারে না। আমরা গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের সেই পুরনো বয়ান থেকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষাকে বের করে এনেছি এবং জাতির সামনে নতুন এক ঐক্যবদ্ধ বয়ান প্রতিষ্ঠা করেছি।
প্রতিবেশী দেশের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ বারবার বাংলাদেশকে একটি তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। তারা আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে আধিপত্য বিস্তার করতে চেয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ সেই ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছে।
স্বাধীনতার চুয়ান্ন বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা এখনো মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রশ্নের সুরাহা করতে পারিনি। বর্তমানেও বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করার নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে চাই। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
সমাবেশে তিনি সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়টিকে সহজভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এটি আমাদের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। আমাদের নিজেদের নিরাপত্তা এখন নিজেদেরই নিশ্চিত করতে হবে। কারণ জনগণ ছাড়া আমাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো আর কোনো নিরাপত্তা বাহিনী অবশিষ্ট নেই।
পুলিশ বাহিনী যদি জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে আমরা বসে থাকব না। প্রয়োজনে আমরা পাল্টা আঘাত চালিয়ে আমাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের জানমাল রক্ষায় আমরা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন