জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ১০:০৫ এএম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠনের জেরে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে এনসিপি। দলটির এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারাসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের অন্তত ১০ জন শীর্ষ নেতা পদত্যাগ করেছেন।
মূলত বাম ঘরানার ছাত্র রাজনীতির পটভূমি থেকে আসা এই নেতারা আদর্শগত কারণে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়াকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ এই সদস্যরা দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন পদত্যাগকারী নেতাদের তালিকায় রয়েছেন—জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।
তাজনূভা জাবীন, যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোহেল, মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন এবং আইসিটি সেলের প্রধান ফারহাদ আলম ভূঁইয়া। এছাড়া কেন্দ্রীয় সদস্য আল আমিন আহমেদ টুটুল, কেন্দ্রীয় সংগঠক আজাদ খান ভাসানী এবং চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মনোনীত প্রার্থী মীর আরশাদুল হকও দল ছেড়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের বাইরেও বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় ইউনিটের বেশ কিছু সদস্য পদত্যাগ করছেন বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, অন্তত ৩০টি আসনে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুরু থেকেই ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত জোটের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় দলের ভেতরে এই গণপদত্যাগের ঘটনা ঘটে। পদত্যাগকারী নেতারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও আদর্শের সঙ্গে এই জোট সাংঘর্ষিক। যদিও দলের পক্ষ থেকে একে কেবল নির্বাচনী কৌশল হিসেবে দাবি করা হচ্ছে, তবে শীর্ষ পর্যায়ের এই প্রস্থান এনসিপিকে নির্বাচনী মাঠে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন