রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

স্বতন্ত্র ও ছোট দলের আড়ালে ‘নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগ: চাঞ্চল্যকর তথ্য

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৯:১৬ এএম

স্বতন্ত্র ও ছোট দলের আড়ালে ‘নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগ: চাঞ্চল্যকর তথ্য

আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের এক নতুন এবং কৌশলী তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতীকে ভোট করা অসম্ভব হলেও, অভিযোগ উঠেছে যে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের ঘনিষ্ঠজন এবং মাঠপর্যায়ের পদধারী নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা ছোট ছোট রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংগৃহীত তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, ব্যক্তিগত পরিচয় ও পুরোনো রাজনৈতিক নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী সংশ্লিষ্টরা এখন গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাতীয় পার্টি (জেপি) কিংবা বাংলাদেশ কংগ্রেসের মতো দলের আবরণে ভোটের মাঠে ফেরার চেষ্টা করছেন।

আওয়ামী লীগের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে ছদ্মবেশী প্রার্থীদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। গোপালগঞ্জ-১ আসনে ‍‍`গণঅধিকার পরিষদ‍‍`-এর মনোনয়ন নিয়ে মাঠে নেমেছেন মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য কাবির মিয়া। 

এছাড়া গোপালগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপদেষ্টা কামরুজ্জামান ভূঁইয়া লুটুল। টাঙ্গাইলের রাজনীতিতেও একই ধরনের ভোল পাল্টানোর চিত্র পাওয়া গেছে। টাঙ্গাইল-৬ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি তারেক শামস খান হিমু বর্তমানে জাতীয় পার্টির (জেপি) ব্যানারে প্রার্থী হয়েছেন। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে গণফোরামের মফিজুল ইসলাম খান কামাল এবং ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশারের মতো ব্যক্তিদের পারিবারিক ও রাজনৈতিক শেকড় আওয়ামী লীগেই প্রোথিত বলে জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আগে জানানো হয়েছিল যে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা কিংবা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে এই ছদ্মবেশী অনুপ্রবেশ কমিশনের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক বলেন, নাম পাল্টে বা দলের লেবাস বদল করে জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে নস্যাৎ করার এই অপচেষ্টা রুখে দিতে ভোটারদের সচেতন হতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ আসনগুলো চিহ্নিত করেছে এবং ছদ্মবেশী প্রার্থীদের কর্মীরা যাতে ভোটকেন্দ্র দখল বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সেনাবাহিনী ও বিজিবির বিশেষ টহল বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।