জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, দেশ ও জাতির সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তারা কারো ‘লাল চোখ’কে ভয় পান না। শনিবার সকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা কারো ওপর খবরদারি করতে চাই না, আবার আমাদের দেশের ওপর কেউ খবরদারি করুক—সেটাও আমরা এক চুল সহ্য করব না।
উত্তরাঞ্চলের প্রধান সমস্যা নদী ভাঙন ও পানিশূন্যতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলায় উত্তরের নদীগুলোকে প্রায় মেরে ফেলা হয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেলে তারা `তিস্তা মহাপরিকল্পনা` বাস্তবায়ন করবেন।
ডা. শফিকুর রহমানের মতে, নদীর জীবন ফিরে আসলেই কেবল উত্তরাঞ্চলের মানুষের কৃষি ও অর্থনীতিতে প্রাণ ফিরে আসবে। তিনি আরও বলেন, জামায়াত কোনো নাগরিককে ‘দয়া’ বা ‘ভাতা’র ওপর নির্ভরশীল করতে চায় না, বরং প্রত্যেককে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চায়।দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিগত দিনের জুলুম-নির্যাতন সত্ত্বেও তারা দেশ ছেড়ে কোথাও যাননি কারণ তারা এই মাটিকে ভালোবাসেন।
মা ও বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন তারা। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা আপনাদেরকে সম্পদে পরিণত করতে চাই, দয়ার পাত্র হিসেবে নয়।"বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেন। উল্লেখ্য যে, এই পাঁচটি আসনেই জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের ভোটারদের কাছে ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আগামী নির্বাচনে তাদের জয়ী করার আহ্বান জানান। জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো গাইবান্ধা জেলা জুড়ে জামায়াত ও জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন