ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে জোটের পক্ষ থেকে আজ সোমবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো হবে।
একইসাথে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হলে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জোটের শীর্ষ নেতারা।জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিষয়টিকে সন্দেহজনক উল্লেখ করে বলেন যে, এটি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার একটি অপকৌশল হতে পারে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, সাধারণ মানুষ তাদের ব্যক্তিগত ফোন কোথায় রেখে ভোট দিতে যাবে। নিরাপত্তার খাতিরেও মানুষের সাথে ফোন থাকা জরুরি। তিনি অবিলম্বে এই প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানান এবং বলেন যে আজ বিকেলেই তারা ১১ দলের প্রতিনিধি দল নিয়ে ইসিতে গিয়ে এ বিষয়ে কথা বলবেন।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও এই প্রতিবাদে সংহতি প্রকাশ করেছেন। দলের পক্ষে ইয়াসির আরাফাত বলেন যে, কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ফোন নিষিদ্ধ করার কোনো যুক্তি নেই। এর ফলে ভোটকেন্দ্রে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার ভিডিও বা ছবি ধারণ করা সম্ভব হবে না যা নির্বাচনি স্বচ্ছতাকে বাধাগ্রস্ত করবে। তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‘অ্যাবসার্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এদিকে ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম আজ দুপুরে এক জনসভায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, নিষেধাজ্ঞা না তুললে কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রিসাইডিং অফিসার ও নির্দিষ্ট কিছু নিরাপত্তা সদস্য ছাড়া অন্য সবার জন্য মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর এমন কঠোর প্রতিবাদের মুখে ইসি শেষ পর্যন্ত তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও মাঠের তাৎক্ষণিক খবর ও প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ভোটারের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে যা বন্ধ করার চেষ্টা হঠকারী সিদ্ধান্ত।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন