ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান।
তারা মনে করেন, এমন সিদ্ধান্ত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা এবং এটি জনমনে গভীর সংশয় ও আস্থার সংকট তৈরি করেছে।শিবির নেতারা বলেন, জুলাই বিপ্লবের সময় সাধারণ মানুষের হাতের এই মোবাইল ফোনই ফ্যাসিবাদের সব অন্যায়ের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে কাজ করেছিল।
এখন নির্বাচনের সময় সেই ফোনকে ভয় পাওয়ার অর্থ হলো জনমতের প্রকৃত প্রতিফলনকে বাধাগ্রস্ত করা। তাদের মতে, আধুনিক যুগে মোবাইল ফোন কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদের হাতিয়ার।
এই সুযোগ কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে কোনো বিশেষ মহলের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা ভোট জালিয়াতির পথকে সুগম করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ৪০০ গজের এই অদ্ভুত বিধিনিষেধের ফলে সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা ও যাতায়াত চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। মানুষ যদি সাথে ফোন না রাখতে পারে, তবে নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। বিএনসিসিকে কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর এখন মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার এই সিদ্ধান্তকে তারা সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছেন।
ছাত্রশিবিরের নেতারা নির্বাচন কমিশনকে এই বিতর্কিত ও হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর মানুষ যে ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে, তাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাখতে হলে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে তা কোনোভাবেই কাম্য হবে না। তারা অবিলম্বে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন