ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সারা দেশে সহিংসতা, নিপীড়ন ও হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীর রাজপথে নেমেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এই বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিজয়ী ও পরাজিত পক্ষের মধ্যে সংঘাত।
নির্যাতন ও নারী নির্যাতনের যে অভিযোগ উঠেছে তার প্রতিকার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে দুপুরের পর থেকেই বায়তুল মোকাররম এলাকায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী সমবেত হতে শুরু করেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহ-প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন গণমাধ্যমকে জানান যে, বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল বের করা হবে। মিছিলটি বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে পুরানা পল্টন মোড় হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত যাওয়ার কথা রয়েছে। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জোটের শীর্ষ নেতারা।
উপস্থিত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ঢাকা-১২ আসনের নবনির্বাচিত এমপি সাইফুল আলম খান মিলন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং পটুয়াখালী-৩ আসনের এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এ ছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ড. রেজাউল করিম, মেজর অবসরপ্রাপ্ত আক্তারুজ্জামান এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। বক্তারা নির্বাচনের পর বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মীদের হয়রানি ও দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে সরকারের কঠোর সমালোচনা করছেন।
উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মোট ৭৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই ৬৮টি আসন পেয়ে সংসদে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। জোটের শরিকদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয়ী হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী এই বিক্ষোভ সমাবেশ মূলত সংসদের বাইরে ও ভেতরে জোটের শক্তিশালী অবস্থানের একটি বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জোটের নেতারা দাবি করেছেন যে, ভোটের পর অনেক এলাকায় বিজয়ী দলের কর্মীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন