সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আমাদের ভোট কেড়ে নেওয়া হয়েছে: সারজিস আলম

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১৪, ২০২৬, ১০:২১ এএম

আমাদের ভোট কেড়ে নেওয়া হয়েছে: সারজিস আলম

বক্তব্য দিচ্ছেন সারজিস

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করেছেন যে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে তাদের অর্জিত ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার হিমালয় পার্কে আয়োজিত জেলা এনসিপির এক ইফতার মাহফিলে তিনি এই অভিযোগ করেন। 

সারজিস আলম বলেন যে এই ভোট চুরির জন্য যেমন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়ী ঠিক তেমনি দলের কর্মীরাও গণনা কেন্দ্রে নিজেদের ভোট রক্ষা করতে না পারার দায় এড়াতে পারেন না। নির্বাচনের ফলাফলকে নানাভাবে প্রভাবিত করে তাদের নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের এখন থেকেই বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এই তরুণ নেতা। তিনি বলেন যে কোনো কেন্দ্রে যদি মাত্র দশজন সমর্থক থাকে তবে সেই দশটি ভোটও যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। 

জাতীয় নির্বাচনে গণনার সময় যে ভুল বা গাফিলতি হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি যেন স্থানীয় নির্বাচনে না ঘটে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার কড়া নির্দেশ দেন তিনি। সারজিস আলমের মতে দেশের সাধারণ মানুষ মনে-প্রাণে রাজনৈতিক পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের লড়াইয়ে রাজপথ থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে দলের ভিত্তি মজবুত করার লক্ষ্যেই তিনি নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার পরামর্শ দেন।বক্তব্যে তিনি ১১ দলীয় ঐক্যজোটের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন যে তারা বর্তমানে বিরোধী দল হিসেবে একসাথে সংসদে থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। 

তবে দলগত বা জোটবদ্ধ যেভাবেই নির্বাচন হোক না কেন মানুষের ভোটের আমানত রক্ষা করাকে তিনি জীবনের চেয়েও বড় দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। জুলাই অভ্যুত্থানের বীরত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন যে ভয় একটি ছোঁয়াচে বিষয় হলেও সাহসিকতা তার চেয়েও বেশি শক্তিশালী। জুলাইয়ের আন্দোলনে যেভাবে একজনকে গুলি করলে আরেকজন বুক পেতে দাঁড়িয়েছিল ঠিক সেই স্পিরিট নিয়ে রাজপথে সক্রিয় থাকতে হবে।

সবশেষে সারজিস আলম নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দেন। তিনি বলেন যে সমাজের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের জন্য নেতাকর্মীদের মধ্য থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ও চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উপজেলা ও জেলা পরিষদের নেতৃত্বে আসতে হবে। ভয় পেয়ে পিছিয়ে না গিয়ে সাহসের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করলেই কেবল কাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব হবে। তার এই বক্তব্যে পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেন।