এপ্রিল ৭, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
রাজধানীর লালবাগ থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় দায়ের করা একটি মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পক্ষ থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। ডিবির যুগ্ম কমিশনার মো. নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, সাবেক এই স্পিকারের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে।
এর মধ্যে লালবাগ থানার একটি নির্দিষ্ট মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।এর আগে মঙ্গলবার ভোরের আলো ফোটার ঠিক আগ মুহূর্তে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল।
ধানমন্ডির ৮/এ রোডে অবস্থিত তাঁর এক নিকটাত্মীয়ের বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পরপরই তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে লালবাগ থানার ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ডিবির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সহিংসতা ও নিহতের ঘটনায় ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। বিশেষ করে রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাটি বেশ আলোচিত। ওই মামলায় তাঁর পাশাপাশি সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া উত্তরা ও বনানী থানাসহ রাজধানীর আরও বেশ কয়েকটি থানায় তাঁর নামে গুরুতর মামলা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন টানা তিন মেয়াদের এই স্পিকার। ২০১৩ সালে দেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত ওই পদে বহাল ছিলেন। সরকার পতনের প্রায় এক মাস পর ২ সেপ্টেম্বর তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। গত কয়েক মাস ধরে তাঁর অবস্থান নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন থাকলেও শেষ পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা সম্ভব হলো। বর্তমানে তাঁকে আদালতে তোলার প্রস্তুতি চলছে বলে ডিবি সূত্রে জানা গেছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পর ডিবির হেফাজতে থাকাকালীন তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার সব ধরনের নিয়ম মেনেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে কি না, তা নিয়ে আইনি পর্যালোচনা চলছে। সাবেক এই প্রভাবশালী রাজনীতিকের গ্রেপ্তার হওয়ার খবরটি জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন