রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জিয়াউর রহমানের জন্য চোখের পানি ফেলে দোয়া করেছি: শফিকুর রহমান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৭:১১ পিএম

জিয়াউর রহমানের জন্য চোখের পানি ফেলে দোয়া করেছি: শফিকুর রহমান

ডা. শফিকুর রহমান

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মরণে জাতীয় সংসদে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক একটি বিল পাসের আলোচনার সময় তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ইতিহাসের বিরল সম্মান নিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন।

এবং তার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষ তার জন্য চোখের পানি ফেলেছেন তিনি জানান, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর খবর শোনার পর তারা ব্যক্তিগতভাবে কোরআন খতম ও দোয়ার আয়োজন করেছিলেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আজম খান ‘জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ কাউন্সিল ২০২৬’ বিল পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ সময় বিলটির বিরোধিতা করতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান জিয়াউর রহমানের শাসনকাল ও জনপ্রিয়তা নিয়ে আলোকপাত করেন। 

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন যে, ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান যখন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, তখন তারা মেডিকেলের ছাত্র ছিলেন। সেই সময়ে কোনো রাজনৈতিক দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করেই তারা দেশের একজন প্রিয় নেতার জন্য হাহাকার করেছিলেন এবং আল্লাহর দরবারে তার জন্য চোখের পানি ফেলে প্রার্থনা করেছিলেন।জামায়াত আমির আরও উল্লেখ করেন যে, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে এসেছিল। 

আজকের সংসদ ও দেশের রাজনৈতিক কাঠামো সেই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতারই একটি অংশ বলে তিনি দাবি করেন। ডা. শফিকুর রহমানের মতে, জিয়াউর রহমান জনগণের মনের ভাষা বুঝতে পারতেন বলেই সাধারণ মানুষের কাছে তিনি অত্যন্ত প্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন। তিনি জনগণের ভালোবাসার প্রেসিডেন্ট ছিলেন বলেই তার মৃত্যুতে গোটা দেশ থমকে গিয়েছিল।

বিরোধীদলীয় প্রধান তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন, জিয়াউর রহমানের ইন্তেকালের পর বাংলাদেশ পুনরায় এক ধরণের অস্থিরতার মধ্যে পতিত হয়, যা এখনো বিভিন্নভাবে অব্যাহত রয়েছে। তিনি মনে করেন, জিয়াউর রহমানের মতো দেশপ্রেমিক নেতার অভাব আজও প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুভূত হয়। বিলে আপত্তি তোলার পাশাপাশি তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অবদান ও পরবর্তী সময়ে দেশ গঠনে তার ভূমিকার কথা বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। তার এই বক্তব্য সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহের সৃষ্টি করে।