রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মনিরা শারমিনের এমপি হওয়া অনিশ্চিত?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

মনিরা শারমিনের এমপি হওয়া অনিশ্চিত?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছেন এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এই প্রার্থীর প্রার্থিতা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে। 

সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর পূর্ণ না হতেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তার প্রার্থিতা বাতিলের জোরালো আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগ কিংবা অবসরের পর তিন বছর পার না হলে কোনো ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। এই আইনি বাধ্যবাধকতা সরাসরি নির্বাচনের পাশাপাশি সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। 

মনিরা শারমিন রাষ্ট্রায়ত্ত কৃষি ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করেছেন মাত্র চার মাস আগে অর্থাৎ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্য হওয়ার দৌড়ে নামার আগে তাকে কমপক্ষে ৩৬ মাস বা তিন বছর সময় অতিবাহিত করতে হতো।সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য নির্ধারিত সময়ে জামায়াত জোট ১৩টি আসনের বিপরীতে ১৩ জন প্রার্থীর তালিকা দিয়েছিল। যদি বাছাইয়ের সময় মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিল হয়, তবে ওই একটি আসন জোটের হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট ওই আসনটি সবার জন্য ‘উন্মুক্ত’ ঘোষণা করা হতে পারে। বর্তমানে জাতীয় সংসদের রাজনৈতিক সমীকরণ অনুযায়ী, আসনটি উন্মুক্ত হলে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি জোটের। যেহেতু বর্তমানে সংসদে বিএনপি জোটের আসন সংখ্যা বেশি, তাই নতুন তফসিলে ভোট হলে তাদের আসন সংখ্যা ৩৬ থেকে বেড়ে ৩৭ হতে পারে। অন্যদিকে জামায়াত জোটের আসন সংখ্যা ১৩ থেকে কমে ১২-তে নেমে আসার ঝুঁকি রয়েছে।এই আইনি জটিলতা নিয়ে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। 

তার মতে, শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন বাতিল হবে না বলেই তারা বিশ্বাস করেন। অন্যদিকে মনিরা শারমিন নিজের দাবির সপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, কৃষি ব্যাংক একটি বিশেষায়িত ব্যাংক এবং তার পদটি রাষ্ট্রের কোনো লাভজনক পদ ছিল না। এটি যেহেতু সরাসরি জনগণের ভোট নয় বরং দল কর্তৃক মনোনীত একটি প্রক্রিয়া, তাই আইনের এই কঠোরতা তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরপিও-এর নিয়ম সবার জন্যই সমান। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে তার রাজনৈতিক ভাগ্য।