এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যারা পুনরায় চাপাতির রাজনীতি শুরু করতে চায় এবং জনপদে সহিংসতার আবহ তৈরি করতে চায়, দেশের সাধারণ ছাত্রসমাজ তাদের চূড়ান্তভাবে লাল কার্ড দেখাবে। তাঁর মতে, বর্তমানে কিছু পক্ষ প্রকাশ্যে রাজনীতি বলতে কেবল প্রতিপক্ষকে চাপাতি দিয়ে কোপানোকেই বুঝছে।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রামে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল কর্মীদের মধ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে সাদিক কায়েম এই প্রতিক্রিয়া জানান। উল্লেখ্য যে, গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
সংঘর্ষ চলাকালীন আশরাফুল ইসলাম নামে ছাত্রশিবিরের এক নেতার পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদল কর্মীদের বিরুদ্ধে। আহতদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতেই বুধবার চট্টগ্রামে আসেন ডাকসু ভিপি।সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সাদিক কায়েম ছাত্রদলের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ছাত্রদল বর্তমানে নতুন কোনো রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা বরং পুরনো ফ্যাসিবাদের বয়ানকেই পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
তাঁর ভাষ্যমতে, চাপাতি দিয়ে পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন করার মতো নৃশংস রাজনীতি ছাত্রসমাজ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। প্রকাশ্যে রাজনীতির অর্থ যদি ক্যাম্পাসে রামদা, চাপাতি আর হকিস্টিক নিয়ে ঘুরে বেড়ানো হয়, তবে সেই রাজনীতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, অতীতে ছাত্রলীগও হেলমেট পরে চাপাতির রাজনীতি করেছিল, কিন্তু তারা শেষ রক্ষা পায়নি। একই পরিণতি অন্যদেরও হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
ঘটনার সূত্রপাত প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম জানান, সাধারণ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এই ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে গোড়ালি বিচ্ছিন্ন করার মতো জঘন্য কাজ করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে কেউ দায়মুক্তি পাবে না। কুয়েত, ময়মনসিংহ মেডিকেল কিংবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অনেক ক্যাম্পাসেও একই কায়দায় বহিরাগত নিয়ে হামলার চেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
হামলায় শিবিরের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করে সাদিক কায়েম বলেন, এই পুরো বিষয়টি নিয়ে তাঁরা পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এই ধরণের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা জানানো হয়েছে। এই সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। ছাত্র রাজনীতিকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন