রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ডাকসু নেতা ও শিবিরে হামলার নিন্দা জানিয়ে জামায়াতের বিবৃতি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১০:৫৫ এএম

ডাকসু নেতা ও শিবিরে হামলার নিন্দা জানিয়ে জামায়াতের বিবৃতি

হামলার প্রতিবাদে জামায়াত

রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে ঢুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতাদের ওপর হামলা এবং পাবনা ও কুমিল্লায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার সকালে দলটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই প্রতিক্রিয়া জানান। 

তিনি এই হামলাকে কাপুরুষোচিত এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন।বিবৃতিতে জামায়াত নেতা উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহবাগ থানার ভেতরে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী, সমাজসেবা সম্পাদক এ বি যুবায়ের এবং ডাকসুর নারী নেত্রী জুমার ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। 

পুলিশি পাহারায় থানার অভ্যন্তরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভোটে নির্বাচিত জনপ্রিয় প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়া প্রশাসনের চরম দেউলিয়াপনার বহিঃপ্রকাশ।

ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নামে একটি ভুয়া আইডি থেকে গুজব ছড়ানোর পর তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে তিনি শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে পুলিশ তাকে উল্টো আটকে রাখে। খবর পেয়ে ডাকসু নেতারা বিষয়টি সমাধানের জন্য থানায় গেলে পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা তাদের মারাত্মকভাবে আহত করে। পুলিশের এমন নিষ্ক্রিয় ভূমিকা অতীতের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী আচরণের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় বলে মন্তব্য করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

একই সাথে সারা দেশে ছাত্রশিবিরের ওপর চলমান হামলার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে শিবিরের শান্তিপূর্ণ মিছিলে এবং কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। কুমিল্লার ঘটনায় অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়। জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেলের মতে, সুপরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে এবং ছাত্রদল রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে।

বিবৃতিতে শিক্ষাঙ্গনে সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলা হয়, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ সমুন্নত রাখতে প্রশাসনকে অবশ্যই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রক্তপাত ঘটানো দেশের সচেতন ছাত্রসমাজ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। হামলাকারীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

সবশেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার আহত নেতাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে রাজনৈতিক উসকানি পরিহার করে সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান। দেশের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছাত্রসমাজ ও প্রশাসনকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানান তিনি।