এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদলকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হায়নার মতো লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং সরকার পুনরায় পুরোনো কর্তৃত্ববাদী শাসনের পথে ফেরার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের একটি পার্কের মিলনায়তনে জেলা জামায়াত আয়োজিত ওয়ার্ড সভাপতি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বর্তমান সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন যে দেশের জনগণ আর কখনোই কোনো কর্তৃত্ববাদী শাসন মেনে নেবে না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বগুড়ার একটি সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে জামায়াতের ওপরে নাকি স্বৈরাচারের আত্মা ভর করেছে। এর জবাবে তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে বিএনপি সরকারকে ফ্যাসিবাদের ভূতে ধরেছে এবং সেই কারণেই তারা জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়ে এখন ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, আজকে যারা জামায়াত-শিবিরকে ‘গুপ্ত’ বলে গালি দিচ্ছে, তারাই বিগত ১৭ বছর বিদেশে লুকিয়ে ছিল। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উপদেষ্টা পরিষদে বিএনপির ‘গুপ্ত’ উপদেষ্টারা ছিলেন যারা এখন এই সরকারের মন্ত্রী হয়েছেন।সংবিধান সংস্কার এবং জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধের বিষয়টিও উঠে আসে জামায়াত নেতার বক্তব্যে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ঐকমত্য কমিশনের আয়োজনে চার মাস ধরে দফায় দফায় সংলাপ হয়েছে এবং ৩৩টি রাজনৈতিক দল সংবিধান সংস্কারে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল।
অথচ অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো যে বিএনপি সংবিধান সংস্কারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১০টি পয়েন্টে ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত দিয়েছে। অধিকাংশ দল ঐকমত্যে পৌঁছালেও বিএনপি কেন এর বিরোধিতা করছে এবং কেন তারা গণভোটের রায়কে বাতিল করতে চায়, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা এবং নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ঝিনাইদহ হলো শহীদের রক্তে ভেজা জনপদ। বছরের পর বছর এই অঞ্চলের মানুষ ফ্যাসিবাদের কারণে নিজের বাড়িতে ঘুমাতে পারেনি।
জীবনের বিনিময়ে সেই শাসনের অবসান ঘটানো হলেও এখন নতুন করে কর্তৃত্ববাদী শক্তি ফেরার চেষ্টা করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জামায়াত বা দেশের মানুষ আর রক্তের বিনিময়ে পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চায় না। তবে সরকার যদি জনগণের গণভোটের ম্যান্ডেট মূল্যায়ন না করে, তবে জনগণ আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এই সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতা মোবারক হোসেন ছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মোহাম্মদ আবুবকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেবসহ জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এই সম্মেলনে অংশ নেন। বক্তারা সবাই একযোগে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার এবং যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। রাজপথে আন্দোলনের অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, তাদের যেন আবারও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য করা না হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন