রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

২৩ জুন ঢাকাসহ দেশজুড়ে অস্থিরতা তৈরির আওয়ামী পরিকল্পনা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ২০, ২০২৬, ০৬:৫৪ এএম

২৩ জুন ঢাকাসহ দেশজুড়ে অস্থিরতা তৈরির আওয়ামী পরিকল্পনা

ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ তাদের আগামী ২৩ জুনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে এক বড় ধরনের অস্থিরতা ও নাশকতার পরিকল্পনা করছে।পর্যায়ে হঠকারী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি, ঝটিকা মিছিল বের করা এবং ককটেল বিস্ফোরণের মতো বেআইনি পন্থায় রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার এই বিশেষ নীলনকশার তথ্য পেয়েছে দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। 

ইতিমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে কিছু চোরাগোপ্তা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে যা মূলত ২৩ জুনের মূল নাশকতার মহড়া বা ট্রেইলার বলে নিরাপত্তা সংস্থা সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন।গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুরো রাজধানীসহ সারা দেশে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে।

নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে যে ঢাকার অন্তত ১৫টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একযোগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির গভীর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই নির্দিষ্ট এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে মতিঝিল, আবরার ফাহাদ এভিনিউ, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, টিএসসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকা, পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি থেকে ধানমন্ডি-৩২ নম্বর পর্যন্ত সড়ক, ধানমন্ডি-৩ নম্বর, কুড়িল বিশ্বরোড, বিজয় সরণি, আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর, মিরপুর-২ নম্বর, ৩০০ ফিট এলাকা এবং গাবতলী। 

এসব পয়েন্টে হঠাৎ করে ২০ থেকে ৩০ জনের ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ঝটিকা মিছিল বের করা এবং গাড়ি ভাঙচুরের মাধ্যমে ঢাকার সচল ট্রাফিক লাইফলাইনকে সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়ার ছক চূড়ান্ত করা হয়েছে। একই সময়ে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামমন্দির ইস্যুর মতো আকস্মিক এজেন্ডাকে সামনে এনে এবং ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পানি ঘোলা করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে যার নেপথ্যে আন্তর্জাতিকভাবে নানা সময়ে বিতর্কিত সংগঠন ইসকনের প্রচ্ছন্ন কালোছায়া রয়েছে বলে গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছেন।

এই সামগ্রিক অরাজকতা সৃষ্টির নেপথ্যে থেকে মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের জন্য আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের ১৬ জন নেতার নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক জিল্লু ও মতিউর রহমান মতি, মহানগর উত্তর কমিটির যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুল গাফফার, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক মাসুদ। 

এ ছাড়া যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মোর্শেদ কামাল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম জিকু ও উপদপ্তরের খন্দকার আরিফুল ইসলাম আরিফ এই তালিকায় রয়েছেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সারওয়ার বাবু, জাহাঙ্গীর হোসেন, আলতাফ হোসেন, গোলাম সরোয়ার কবির, সেলিম সারোয়ার এবং ইব্রাহিম হোসেনও এই নাশকতামূলক কার্যক্রমের দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন।

এই পুরো ষড়যন্ত্রের অন্যতম প্রধান অর্থদাতা ও নেপথ্য চালিকাশক্তি হিসেবে ৬২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সাবেক শ্রমিক নেতা মোস্তাক আহমেদকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভাড়াটে ক্যাডার সংগ্রহ, ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র কেনা এবং ঝটিকা মিছিলের যাবতীয় ব্যয়ভার বহনে মোটা অঙ্কের টাকা সরবরাহ করছেন এই মোস্তাক। ইতিমধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীতে ঝটিকা মিছিল থেকে ৪-৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে এবং শুক্রবার উত্তরা সংলগ্ন আবদুল্লাহপুরসহ চট্টগ্রাম ও মেহেরপুরেও একই ধরনের নাশকতার খবর পাওয়া গেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এসএন নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন যে ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না এবং প্রতিটি প্রবেশমুখে তল্লাশি চৌকি ও স্পর্শকাতর স্থানে অতিরিক্ত ফোর্স মোায়েন করা হয়েছে। কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন যেন রাজপথে নামার দুঃসাহস দেখাতে না পারে সে ব্যাপারে সম্পূর্ণ শূন্যসহনশীলতা বা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক এএইচএম শাহাদাত হোসেন বলেন যে জনজীবনের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ সম্পূর্ণ সজাগ ও সতর্ক রয়েছে।