জুন ২১, ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ কক্ষের পরিবেশ। রোববার অধিবেশন চলাকালীন এই অনির্ধারিত বিতর্কের কারণে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র হট্টগোল ও বাদানুবাদ হয়েছে। জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল তথা এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের দেওয়া কিছু বক্তব্যকে সম্পূর্ণ অসত্য দাবি করে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ বা এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানায় সরকারি দল।পাল্টা জবাবে বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট অংশ উপস্থাপনের দাবি তুলেছে বিরোধী দল।
বজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে আবদুল হান্নান মাসউদের দেওয়া প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ ভবনের পরিবেশ আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন তিনি ঋণখেলাপিদের উৎসাহিত করার অভিযোগ তোলেন। একই সাথে তিনি দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাটের নামকরণে একক পরিবারের আধিপত্য এবং সীমান্ত হত্যা নিয়ে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন।
তাঁর এই কঠোর বক্তব্য চলাকালেই সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে তীব্র হইচই করে বারবার প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এনসিপির এই সংসদ সদস্য দাবি করেন যে তারা ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে এই সংসদে এসেছেন এবং জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলা অব্যাহত রাখবেন।এনসিপি সংসদ সদস্যের বক্তব্যের তীব্র আপত্তি জানিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক সংসদ নেতাকে কটূক্তি করা বক্তব্য অনতিবিলম্বে এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলীয় চিহ্ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করার অধিকার বিরোধী দলের অবশ্যই রয়েছে তবে ঢালাওভাবে অসত্য না বলে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ দেওয়া উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে তারা দেশের সংসদকে নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদের দিকে না নিয়ে প্রকৃত গণতন্ত্রের দিকে নিয়ে যেতে চান।পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিরোধী দলের সদস্য সুনির্দিষ্টভাবেই সংসদ নেতাকে কটূক্তি করেছেন এবং বিরোধী দলের পক্ষ থেকেই মূলত সংসদে ফ্যাসিস্ট আচরণ করা হচ্ছে।
মূলত প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ কক্ষ শান্ত করতে বৈঠক প্রধানের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অসন্তোষ প্রকাশ করে হান্নান মাসউদকে অনতি বসার নির্দেশ দেন। ডেপুটি স্পিকার কড়া সুরে বলেন, এটি জাতীয় সংসদ এবং এটি কোনো শাহবাগ চত্বর নয় যে যখন খুশি তখন মাইক ছাড়া দাঁড়িয়ে কথা বলা যাবে। সবশেষে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদের বাইরের কোনো বিষয় টেনে এনে ঝগড়া না করার আহ্বান জানান এবং ডেপুটি স্পিকার পুরো বিষয়টি কার্যবিবরণী দেখে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন