জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত নৃশংস গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির জোরালো দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে একটি প্রতিবাদী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন এবং বিচার প্রক্রিয়ায় চলমান ধীরগতির তীব্র সমালোচনা করেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে মানববন্ধন শেষে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্টার ও চিফ প্রসিকিউটরের নিকট সাত দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।গণহত্যার বিচার নিশ্চিত না হলে বর্তমান সরকারকে জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন যে পাঁচই আগস্টের পর জনগণের প্রাথমিক প্রত্যাশা ছিল জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করা, কিন্তু বর্তমানে বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান ধীরগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতায় আসা নতুন সরকার দলীয় চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগের মাধ্যমে বিচার কাজকে মন্থর করে দিয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ সময় এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন যে রাষ্ট্র সংস্কার ও গণহত্যার বিচারের বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে জোরালো উদ্যোগ না দেখা গেলে ইতিহাসের কাঠগড়ায় তাদেরও দায় নিতে হবে। এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব আওয়ামী লীগের সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শহীদ পরিবারের সদস্যরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও প্রহসনমূলক রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শহীদ মেহেদী হাসান জুনায়েদের পিতা শেখ জামাল হোসেন কান্নার কণ্ঠে জানান যে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাম্প্রতিক রায়গুলোতে প্রকৃত অপরাধীদের সাজা নিশ্চিত হয়নি, যা শহীদ পরিবারের সঙ্গে উপহাসের শামিল।
শহীদ আলিফের পিতা গাজিউর রহমান অভিযোগ করেন যে দীর্ঘ সময় পার হলেও হত্যা মামলার প্রধান আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিচার কার্যক্রমের নামে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। বক্তারা অবিলম্বে সমস্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে অপরাধের প্রধান ঘটনাস্থলগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করা, দায়িত্বশীল পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তার করা এবং দেশের একষট্টি জেলায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত। এছাড়া আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহতকারী অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ অসংখ্য জুলাইযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন