রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

শপথের পর এক টাকারও দুর্নীতি করিনি দাবি এমপি আমির হামজার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১১, ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম

শপথের পর এক টাকারও দুর্নীতি করিনি দাবি এমপি আমির হামজার

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে শপথ গ্রহণের পর গত সাড়ে ছয় মাসে সরকারি কোনো অর্থ আত্মসাৎ কিংবা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হননি বলে দাবি করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা। একই সঙ্গে সংসদে দায়িত্ব পালন করা অন্য জনপ্রতিনিধিদেরও দুর্নীতিমুক্ত থাকার আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি এক উন্মুক্ত বক্তব্যে তিনি এসব দাবি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।

নিজের সংসদীয় মেয়াদের সততার বিষয়ে আমির হামজা বলেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত সজ্ঞানে ও সম্পূর্ণ বিবেককে সাক্ষী রেখে বলতে পারি, এই সাড়ে ছয় মাসে সরকারি এক টাকারও দুর্নীতি আমার মাধ্যমে সংঘটিত হয়নি। তিনি দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে উপস্থিত অন্যান্য সহযোগীরাও একই ধরনের নিশ্চয়তা প্রদান করতে সক্ষম।

দলীয় সংসদ সদস্যদের সততার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৬৮ জন সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকেও একই ধরনের পরিচ্ছন্ন অবস্থান নিশ্চিত করা যাবে।

তিনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, বর্তমান সংসদের বাকি ২১২ জন সংসদ সদস্য কোনো ধরনের দুর্নীতি করেননি মর্মে যদি প্রমাণসহ নিশ্চয়তা দিতে পারেন, তবে তাঁরা রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।

বক্তব্যে দেশের চিনি উৎপাদন ব্যবস্থাপনা এবং বৈদেশিক আমদানিনির্ভরতা নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন এই সংসদ সদস্য।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশে প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন ভোজ্য চিনির বিশাল চাহিদা রয়েছে। অথচ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার কারণে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ চিনি উচ্চমূল্যে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে।

আমির হামজা দাবি করেন, বন্ধ থাকা দেশীয় চিনিকলগুলো দ্রুত পুনরায় চালু করা গেলে স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। এর ফলে বিদেশের ওপর অতিমাত্রিক নির্ভরতা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণও বহুলাংশে ভেঙে ফেলা যাবে।

কুষ্টিয়ার স্থানীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, সরকার চাইলে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সম্পদ কাজে লাগিয়েই চিনি উৎপাদন বহুগুণ বাড়াতে পারে। স্থানীয় চিনিকলের অধীনে প্রায় ৭২০ বিঘা মূল্যবান কৃষি জমি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশে এত বিপুল পরিমাণ নিজস্ব সম্পদ পড়ে থাকা সত্ত্বেও কেন জনগণের অর্থ ব্যয় করে বাইরে থেকে চিনি আমদানি করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সমালোচনা করে আমির হামজা অভিযোগ করেন, সারা দেশে সার, উন্নত বীজ, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে সাধারণ কৃষক ও সাধারণ মানুষের গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। কিন্তু এসব জরুরি সংকট সমাধানে প্রশাসনের কার্যকর মনোযোগ দেখা যাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ তোলেন, জনস্বার্থের বিষয়ে নজর না দিয়ে দলীয়করণের পথ বেছে নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।