অক্টোবর ২২, ২০২৫, ০৪:৫৪ পিএম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবশ্যই একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য ধারণ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের প্রধান পূর্বশর্তই হচ্ছে নিরপেক্ষতা এবং এই নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে না পারলে অশুভ শক্তিগুলো দেশে শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির রূপরেখা স্পষ্ট করে বলেন, কারও নির্দেশ বা কথায় নয়, বাংলাদেশ তার নিজস্ব ভূরাজনৈতিক কৌশল নিজেই নির্ধারণ করবে এবং বিশ্বের প্রতিটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপিত হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বার্থের ভিত্তিতে। বুধবার, ২২ অক্টোবর, দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও সার্বভৌমত্বের বিষয়ে বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে, তবে তা হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে। তিনি বলেন, পরস্পরের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে, পরস্পরের স্বার্থ রক্ষা করে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কারও হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর ভিত্তি করেই সব দেশের সঙ্গে এই সম্পর্ক নির্ধারিত হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভূরাজনৈতিক যে কৌশল, সেই কৌশল আমরা নির্ধারণ করব।
কারও কথামতো সে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। এ বিষয়গুলোকে আমরা নিশ্চিতভাবে ভিত্তি করে আগামী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে নিশ্চিত করব। এটাই হচ্ছে বিএনপির রাজনীতি।’ তার এই বক্তব্য জুলাই-পরবর্তী পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন শক্তির প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের একটি জনদাবি তৈরি হয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতির পাশাপাশি আমীর খসরু আসন্ন নির্বাচন নিয়ে দলের অবস্থান ও দাবিগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পূর্বশর্ত হচ্ছে নিরপেক্ষতা। গত ১৭ বছর আমরা লড়াই করেছি একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য।’ তিনি মনে করিয়ে দেন যে, দেশে নিরপেক্ষতার পরিবেশ না থাকলে অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, যা তিনি আগেও বিভিন্ন সময়ে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘যেহেতু নির্বাচনের আগে (সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে) তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসবে না, সেহেতু বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
এই দায়িত্ব পালনের অর্থ কী, তা ব্যাখ্যা করে খসরু বলেন, কেয়ারটেকার সরকারের চরিত্র কেমন হবে তা সংবিধানেই পরিষ্কারভাবে বলা আছে। তাই এই সরকারকে সেই বৈশিষ্ট্যগুলো এই মুহূর্ত থেকেই ধারণ করতে হবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘কেয়ারটেকার সরকারের জায়গায় অবতীর্ণ হওয়ার অর্থ হচ্ছে পুরোপুরি নিরপেক্ষ অবস্থানে যাওয়া।’
এই নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি একটি সুনির্দিষ্ট দাবিও জানান বিএনপির এই নীতিনির্ধারক। তিনি সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সময়ের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘গত এক-দেড় বছরে সরকারের বিভিন্ন জায়গায় অনেক বদলি হয়েছে। এসবের কিছু কিছু বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সে কারণে এই জায়গাগুলো ঠিক করতে হবে।’ তিনি সরাসরি সরকারের মধ্যে থাকা সেসব ব্যক্তিকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান, যাদের অবদান বা ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বা যারা নিরপেক্ষতার পরিপন্থী।
এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেই কেবল নির্বাচনের জন্য একটি সত্যিকারের নিরপেক্ষ মাঠ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, বিএনপি বর্তমানে একটি বড় ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। খসরু বলেন, ‘আমরা তো চাইলে রাস্তায় নেমে যেতে পারতাম। আমরা সমস্যার সমাধানে রাস্তায় যাইনি, আমরা আলোচনার টেবিল বেছে নিয়েছি।
কারণ আমরা রেসপন্সিবল রাজনৈতিক দলের ভূমিকা পালন করছি। আমরা জোর করে কিছু আদায় করতে চাইনি, কারণ আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।’ তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি আলোচনার মাধ্যমে এবং সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে থেকেই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়।




দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন