রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে এনসিপি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৫, ০৫:৩১ পিএম

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে এনসিপি

ছবি - সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবং ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ অব্যাহত রেখেছেন। এরই অংশ হিসেবে বুধবার, ২২ অক্টোবর, তিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। দল দুটি হলো—জুলাই বিপ্লবের পটভূমি তৈরিকারী অন্যতম প্রধান শক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

এই বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়, যা বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই সংলাপ এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা এবং না করা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সুস্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে।বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে বসে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি প্রতিনিধিদল।

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন এদিন বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই সংলাপে অংশ নিচ্ছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। কারণ, গত ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জামায়াতসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করলেও এনসিপি এই সনদে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত ছিল।

এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, সনদের আইনি ভিত্তি স্পষ্ট না করে এবং গণভোটের আগে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি না করে এই সনদে স্বাক্ষর করা অর্থহীন। এই আপত্তির কারণেই এনসিপি ও অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছিল। আজকের বৈঠকের মাধ্যমে সেই দূরত্ব কমিয়ে আনা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে এনসিপির দাবিগুলো সরাসরি প্রধান উপদেষ্টাকে জানানোর একটি সুযোগ তৈরি হলো।

এনসিপির বৈঠকের পরপরই, সন্ধ্যা ছয়টায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এই বৈঠকে অংশ নেবেন। জামায়াতে ইসলামী জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী অন্যতম দল।

ধারণা করা হচ্ছে, সনদের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে নিজেদের দাবি ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরবেন।এই ধারাবাহিক রাজনৈতিক সংলাপ শুরু হয়েছে মূলত জুলাই সনদ স্বাক্ষর-পরবর্তী পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে। এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে একই স্থানে সাক্ষাৎ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।

ওই বৈঠক শেষে বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারকে অবিলম্বে একটি নির্দলীয় ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ পূর্ণাঙ্গ ভূমিকা গ্রহণ করার আহ্বান জানায়। একইসঙ্গে বিএনপি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে থাকা ‘দলীয় লোকজনকে’ সরিয়ে দিয়ে নির্বাচনের জন্য শতভাগ নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করারও জোর দাবি জানিয়েছে। একদিকে সনদে স্বাক্ষরকারী দল বিএনপির পক্ষ থেকে প্রশাসন ঢেলে সাজানোর চাপ, অন্যদিকে সনদে স্বাক্ষর না করা এনসিপির পক্ষ থেকে সনদের আইনি ভিত্তি আগে নিশ্চিত করার পাল্টা চাপ

এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন প্রধান উপদেষ্টার মূল চ্যালেঞ্জ। ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সর্বজনগ্রাহ্য ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন, যার ওপর নির্ভর করছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা।