রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নভেম্বরে গণভোটের দাবি: সিইসিকে ৮ দলের স্মারকলিপি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩০, ২০২৫, ০৩:২০ পিএম

নভেম্বরে গণভোটের দাবি: সিইসিকে ৮ দলের স্মারকলিপি

জাতীয় নির্বাচনের আগে বহুল আলোচিত 'জুলাই জাতীয় সনদ' অনুযায়ী গণভোট আয়োজন করা না হলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এই মন্তব্য করেন। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং খেলাফত মজলিসহ মোট আটটি রাজনৈতিক দল আগামী নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে সিইসির কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

মাওলানা আব্দুল হালিম সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই গণভোটের আয়োজন করতে হবে। তিনি জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট একদিনে অনুষ্ঠানের ধারণার বিরোধিতা করে বলেন, দুটি বিষয় একদিনে হওয়া উচিত নয়, গণভোট অবশ্যই নভেম্বর মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে আলোচিত বিষয় হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ, যাতে দেশের ২৫টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছে। এই সনদের প্রেক্ষাপটেই তাদের এই আয়োজন এবং গণভোট আগে অনুষ্ঠিত না হলে জাতীয় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে বলে তিনি পুনরায় হুঁশিয়ারি দেন।

গণভোটের দাবির পাশাপাশি বৈঠকে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, কোনো কোনো রাজনৈতিক দল আরপিওতে সংশোধনী আনার কথা বললেও তারা আরপিও হুবহু বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন। সিইসির সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে আব্দুল হালিম বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং এই দাবিগুলো বিবেচনার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন।

এর আগে, এদিন সকালেই পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিতে নির্বাচন কমিশনের সামনে জড়ো হন আটটি দলের নেতাকর্মীরা। বেলা ১১টায় তারা ইসি ভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। সমাবেশে নেতারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করে নভেম্বরেই গণভোট আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান। তারা সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করারও দাবি তোলেন। নেতারা হুঁশিয়ারি দেন, দাবি মানা না হলে বিগত নির্বাচন কমিশনের পরিণতি বর্তমান কমিশনকেও ভোগ করতে হতে পারে। দুপুর ১২টার দিকে দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল সিইসির কার্যালয়ে প্রবেশ করে স্মারকলিপি জমা দেয়। মাওলানা আব্দুল হালিম আরও জানান, আট দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, স্মারকলিপি দেওয়ার পর তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং আগামী ৩ নভেম্বর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।