সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রক্ষীবাহিনী নয়, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তরুণদের প্রশিক্ষণ: উপদেষ্টা আসিফ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৮, ২০২৫, ১০:২৬ এএম

রক্ষীবাহিনী নয়, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তরুণদের প্রশিক্ষণ: উপদেষ্টা আসিফ

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া একটি মহল কর্তৃক গুজব ছড়ানোর অভিযোগ এনেছেন এবং স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, প্রায় ৯ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণের যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে, তা মিলিশিয়া বা রক্ষীবাহিনী তৈরি করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণপ্রতিরক্ষার জন্য। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবেই সরকারের সম্মতিতে এই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সারাদেশের ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের জুডো, কারাতে, তায়কোয়ান্দো এবং শুটিং প্রশিক্ষণে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে।প্রশিক্ষণার্থী: এই প্রকল্পের আওতায় ৮ হাজার ৮৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।স্থান ও সময়: আগামী দুই বছর ১০০টি স্লটে ভাগ করে এই আবাসিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি)।ব্যয়: প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮ কোটি টাকা।

প্রকল্পটি নিয়ে তৈরি হওয়া মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও জল্পনা-কল্পনার জবাবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, এই প্রশিক্ষণটা হবে এয়ারগান দিয়ে, কিন্তু অনেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একে ফোর্টি সেভেনের (AK-47) কথা বলছে। তিনি বলেন, এমন সমালোচনা যারা করছে, তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে এবং তারা চাইলে বিস্তারিত তথ্য নিতে পারতেন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “এটা কোনো বাহিনী নয়, প্রশিক্ষণের পর তাদের কাউকে অস্ত্র দেয়াও হবে না। কোথাও রিক্রুটও করা হবে না। প্রশিক্ষণ শেষে তারা তাদের নিয়মিত কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাবেন।” তাদের ডাটা সরকারের কাছে থাকবে, যাতে কখনও সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হলে তাদের কাজে লাগানো যায়।

জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তরুণদের প্রশিক্ষিত করার এই উদ্যোগকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে অভিহিত করে উপদেষ্টা বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর স্পষ্টভাবে একটি বড় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হুমকির মুখে আছি। সে কারণেই আমি মনে করি, আমাদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি রাখা উচিত। এজন্য অবশ্যই আমাদের গণপ্রতিরক্ষা ছাড়া আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার চুড়ান্ত উপায় হলো গণপ্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা।"

তিনি অভিযোগ করেন, যারা এই প্রশিক্ষণকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে, তারা ভারতপন্থী। তার মতে, গণপ্রতিরক্ষার এই আইডিয়া অনেকের স্বার্থে আঘাত করবে, কারণ দেশের তরুণদের বড় অংশের প্রশিক্ষণ থাকলে আগ্রাসন চালানোর সুযোগ থাকবে না।