ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫, ১০:৩৫ এএম
মানুষের চিন্তা, বিবেক ও বোধকে আলোকিত করে যে জ্ঞান, ইসলাম সেই জ্ঞানকে দিয়েছে সর্বোচ্চ মর্যাদা। জ্ঞানের বাহক আলেম বা বুদ্ধিজীবীরা ইসলামের দৃষ্টিতে কেবল সমাজের পথপ্রদর্শক নন, বরং আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত এক শ্রেণি।
ইতিহাসের প্রতিটি যুগেই ইসলাম জ্ঞানচর্চা, চিন্তাশীলতা ও কলমের শক্তিকে গুরুত্ব দিয়েছে। এ কারণেই পবিত্র কোরআনের প্রথম বাণীটিই হলো:পড়ো! তোমার প্রভুর নামে...পাঠ করো সেই মহিমান্বিত প্রভুর নামে, যিনি কলম দিয়ে শিক্ষা দিয়েছেন।(সুরা আলাক: ১-৪)
শান্তি ও মানবতার এই ধর্মটি তাই ধর্মপ্রাণ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড কখনোই সমর্থন করে না।আলেম বা বুদ্ধিজীবীদের সম্মান জানিয়ে পবিত্র কোরআনে রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন।
মর্যাদা বৃদ্ধি: “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের উচ্চ মর্যাদা দেবেন। আর যা কিছু তোমরা কর, আল্লাহ সে বিষয়ে পূর্ণ অবহিত।” (সুরা মুজাদালা: ১১)প্রভূত কল্যাণ: সুরা বাক্বারায় ইরশাদ হয়েছে, “যাকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে।” (আয়াত: ২৬৯)জানার গুরুত্ব: সুরা জুমারে বলা হয়েছে, “আপনি বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে? বুদ্ধিমান লোকরাই তো নসিহত কবুল করে থাকে।” (আয়াত: ৯)একাধিক হাদিসে মহানবী (সা.) জ্ঞান সাধনায় উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং জ্ঞানীদের মর্যাদাকে সুউচ্চ করেছেন।
নবীর উত্তরাধিকারী: তিনি ঘোষণা করেছেন, “শিক্ষিত সম্প্রদায় নবীর উত্তরাধিকারী। যে জ্ঞানকে ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছে, সে তার এক বিরাট অংশ অধিকার করেছে এবং যে জ্ঞানার্জনের পথে নিজেকে নিয়োজিত করে, আল্লাহ তার জন্য বেহেশতের পথ সুগম করেন।” (মুসলিম: ২৬৯৯)শিক্ষকের জন্য দোয়া: সমাজের শিক্ষক শ্রেণির মর্যাদা অপরিসীম। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ, তার ফেরেশতারা এবং আসমান-জমিনের অধিবাসীরা, এমনকি গর্তের পিপড়া ও পানির মাছ পর্যন্ত সেই ব্যক্তির জন্য দোয়া করে, যে মানুষকে কল্যাণকর জ্ঞান শিক্ষা দেয়।” (তিরমিজি: ২৬৮৫)


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন