জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ১০:৪২ এএম
ইসলামি জীবনদর্শনে নেতৃত্ব কেবল একটি পদমর্যাদা বা ক্ষমতার উৎস নয় বরং এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত এক বিশাল আমানত। ইসলামে যে কেউ চাইলেই নেতা হতে পারে না এবং কেবল বিত্ত বা লোকবল থাকলেই নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জিত হয় না। পবিত্র কোরআনের সুরা ইউসুফে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে একজন নেতার অন্যতম মৌলিক গুণ হলো জ্ঞান এবং রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতা বা আমানতদারি।
নবী ইউসুফ আলাইহিস সালাম যখন মিসরের অর্থব্যবস্থাপনার দায়িত্ব চেয়েছিলেন তখন তিনি নিজের জ্ঞান ও বিশ্বস্ততার কথা উল্লেখ করেছিলেন। এর অর্থ হলো যেকোনো বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকতে হবে এবং তার ভেতর আমানতদারিতার গুণ থাকতে হবে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে যার ভেতর আমানতদারি নেই তার প্রকৃত ইমান নেই।আদর্শ নেতার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার বিষয়টিও ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়েছে।
সুরা বাকারার একটি আয়াতে তালুতকে যখন বাদশাহ মনোনীত করা হয় তখন তার আর্থিক সচ্ছলতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু নবী পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন যে আল্লাহ তাকে জ্ঞান ও শারীরিক দিক থেকে সমৃদ্ধি দান করেছেন। অর্থাৎ একজন রাষ্ট্রনায়ককে হতে হবে মেধাবী, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন এবং মানসিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ় মনোবলসম্পন্ন। তিনি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়বেন না এবং সুস্থ শরীরে জনগণের সেবা নিশ্চিত করবেন। এছাড়া একজন নেতার মূল কাজ হবে মানুষকে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশিত পথে আহ্বান করা এবং ইনসাফ কায়েম করা।
হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী সফরে বা কর্মক্ষেত্রে যিনি মানুষের বেশি সেবা করেন তিনিই প্রকৃত নেতা হিসেবে গণ্য হন।আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দেশজুড়ে ব্যাপক তোড়জোড় চলছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশ পরিচালনার প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। একজন সচেতন মুসলিম এবং নাগরিক হিসেবে এই সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অত্যন্ত সতর্ক হওয়া জরুরি।
পবিত্র কোরআনে ইনসাফ, আমানতদারি, আল্লাহভীতি এবং শুরা বা পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একজন আদর্শ নেতা কখনো জনগণের ওপর কর্তৃত্বপরায়ণ হবেন না বরং তিনি হবেন বিনয়ী ও ধৈর্যশীল। মনে রাখা প্রয়োজন যে কিয়ামতের দিন প্রতিটি ভোটারকে তার দেওয়া ভোটের হিসাব দিতে হবে। তাই কেবল হুজুগ বা আবেগের বশবর্তী না হয়ে প্রার্থীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং যোগ্যতা ইসলামি মানদণ্ডে বিচার করে ভোট দেওয়া প্রতিটি ঈমানদারের দায়িত্ব।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন