জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
রমজান মাসে রোজা এবং তারাবির নামাজ উভয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমানের মনে প্রায়ই একটি প্রশ্ন জাগে যে কেউ যদি কোনো কারণে তারাবির নামাজ পড়তে না পারেন তবে কি তার রোজা হবে না অথবা রোজা বাতিল হয়ে যাবে। ইসলামি শরিয়তের আলোকে এই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া জরুরি যাতে মানুষের মনে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা ভুল ধারণা না থাকে। মৌলিকভাবে রোজা এবং তারাবির নামাজের হুকুম বা বিধান সম্পূর্ণ আলাদা।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা প্রতিটি সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর রমজানের রোজা ফরজ করেছেন। এটি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি যা পালন করা অত্যাবশ্যক। অপরদিকে তারাবির নামাজ হলো সুন্নতে মুআক্কাদা যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে আদায় করেছেন এবং সাহাবাদের এটি আদায়ে উৎসাহিত করেছেন। কিন্তু এটি ফরজের পর্যায়ভুক্ত নয়।
শরিয়তের বিধান অনুযায়ী তারাবির নামাজ না পড়লে রোজা বাতিল হয়ে যায় না। রোজা সহিহ হওয়ার প্রধান শর্ত হলো নিয়ত করা এবং সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও রোজা ভঙ্গকারী কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা।
তারাবির নামাজ এই শর্তগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই কেউ যদি রোজা রেখে কোনো কারণে বা অলসতা করে তারাবি আদায় করতে না পারেন তবে তার রোজা ফিকহ শাস্ত্র অনুযায়ী সহিহ হবে। তবে তারাবির নামাজের ফজিলত ও গুরুত্ব অপরিসীম। হাদিসে এসেছে যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে নামাজ অর্থাৎ তারাবি আদায় করবে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। এটি রমজানের বিশেষ বরকত ও আত্মশুদ্ধির একটি বড় মাধ্যম।
তারাবির নামাজ স্বেচ্ছায় বা নিয়মিতভাবে বর্জন করা একজন মুমিনের জন্য অনুচিত। যেহেতু এটি সুন্নতে মুআক্কাদা তাই ওজর ছাড়া এটি ছেড়ে দেওয়া গুনাহের কাছাকাছি বা মাকরূহ পর্যায়ের কাজ। তবে এতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। বিষয়টি অনেকটা ফজরের নামাজের পর সুন্নত না পড়ার মতো যাতে ফরজ নামাজ আদায় হয়ে গেলেও মানুষ একটি বড় সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়।
বাস্তব জীবনে অসুস্থতা বা অতিরিক্ত দুর্বলতা কিংবা জরুরি কোনো কাজের চাপে কেউ যদি তারাবি পড়তে না পারেন তবে ইসলামে তার জন্য শিথিলতা রয়েছে। কারণ আল্লাহ মানুষের ওপর তার সামর্থ্যের বাইরে কোনো কিছু চাপিয়ে দেন না। তবে তারাবির মাধ্যমে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত শোনা এবং দীর্ঘ সময় ইবাদতে কাটানো মানুষের আত্মিক প্রশান্তি বৃদ্ধি করে। সুতরাং রোজা ও তারাবি দুটি ভিন্ন ইবাদত হলেও একটির অভাবে অন্যটি বাতিল হয় না কিন্তু পূর্ণ বরকত পেতে দুটিই সমান গুরুত্ব দিয়ে পালন করা উচিত।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন