রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জুমার দিনের শ্রেষ্ঠ ৩ আমল নিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহর বার্তা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১১:৩৪ এএম

জুমার দিনের শ্রেষ্ঠ ৩ আমল নিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহর বার্তা

জুমার দিনের ৩ আমল

সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ এবং মর্যাদাপূর্ণ দিন জুমার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনটি বিশেষ আমল কখনোই না ছাড়ার জন্য মুসলিম উম্মাহর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও জনপ্রিয় আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। সম্প্রতি এক ধর্মীয় আলোচনায় তিনি বলেন, জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এই তিনটি আমল আঁকড়ে ধরার সংকল্প করা প্রতিটি মুমিনের উচিত। 

জুমার দিন কেবল উৎসবের দিন নয়, বরং ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক বিশাল সুযোগ। আমলগুলো পালনের মাধ্যমে একজন মুসলিম নিজেকে আধ্যাত্মিকভাবে আরও সমৃদ্ধ করতে পারেন।

প্রথম আমল হিসেবে শায়খ আহমাদুল্লাহ জুমার দিন বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমার রাত ও জুমার দিনে তাঁর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন। জুমার রাত শুরু হয় বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে এবং জুমার দিন শেষ হয় শুক্রবার সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত। 

এই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমলের গুণগত মান ঠিক রেখে পরিমাণেও দরুদ বৃদ্ধি করতে হবে। দরুদ পাঠের জন্য ওজু থাকা শর্ত নয় এবং এটি পেরেশানি দূর করার পাশাপাশি জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম। সবচেয়ে উত্তম দরুদ হলো দরুদে ইব্রাহিম, তবে সংক্ষেপে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পড়লেও আমলটি আদায় হয়ে যাবে।দ্বিতীয় আমল হিসেবে তিনি জুমার দিনের ফজরের নামাজ জামাতে আদায়ের কথা বলেন। 

হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, সপ্তাহের সব নামাজের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ হলো জুমার দিনের ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা। এটি একজন প্রকৃত ঈমানদারের বড় আলামত। শুক্রবার ফজরে উপস্থিত হওয়ার সুবিধার্থে বৃহস্পতিবার রাতে দেরি করে না জেগে দ্রুত ঘুমানোর পরামর্শ দেন তিনি। কিয়ামতের দিন অন্ধকার ভেদ করে মসজিদে যাওয়া মুমিনদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ নূরের সুসংবাদ রয়েছে। এটি দিনের শুরুটাকে বরকতময় করে তোলে।

তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ আমলটি হলো জুমার নামাজে আগে আগে উপস্থিত হওয়া। নবীজি বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে পায়ে হেঁটে আগেভাগে মসজিদে যাবে এবং ইমামের কাছে বসে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনবে, সে প্রতিটি কদমের বিনিময়ে এক বছরের নফল রোজা ও এক বছর তাহাজ্জুদের সওয়াব পাবে। শায়খ আহমাদুল্লাহ এই ফজিলত অর্জনে মুসল্লিদের সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান। খুতবা চলাকালীন অনর্থক কথা বলা থেকে বিরত থাকাও এই আমলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিশেষে তিনি আমলগুলো পালনের অঙ্গীকার করার মাধ্যমে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দ্বীনের পথে অটল থাকার অনুপ্রেরণা দেন।