মার্চ ৩, ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
ইতিকাফ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো কোনো স্থানে অবস্থান করা, নিবেদিত হওয়া বা নিজেকে জাগতিক বিষয় থেকে বিচ্ছিন্ন করা। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ইবাদতের উদ্দেশ্যে দুনিয়ার সব ব্যস্ততা ত্যাগ করে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলা হয়। বিশেষ করে যেখানে জামাতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা রয়েছে, এমন পবিত্র স্থানে অবস্থান করাই ইতিকাফের মূল শর্ত।
এটি একজন মুমিনকে মহান রবের সান্নিধ্য লাভের এক অনন্য আধ্যাত্মিক সুযোগ করে দেয়।ইসলামী বিধান অনুযায়ী ইতিকাফ প্রধানত তিন প্রকার। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সুন্নত ইতিকাফ, যা রমজানের শেষ দশকে পালন করা হয়।
২০ রমজান সূর্যাস্তের আগ মুহূর্ত থেকে ঈদের চাঁদ দেখা পর্যন্ত এই আমলটি জারি থাকে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত এই আমলটি করতেন বলে একে সুন্নতে মুয়াক্কাদা কিফায়া হিসেবে গণ্য করা হয়। এছাড়া রয়েছে নফল ইতিকাফ, যা বছরের যেকোনো সময় যেকোনো মেয়াদে নিয়ত করার মাধ্যমে আদায় করা সম্ভব।
অন্যদিকে, মান্নত করা ইতিকাফ কিংবা সুন্নত ইতিকাফ ভেঙে গেলে তার কাজা আদায় করাকে ওয়াজিব ইতিকাফ বলা হয়।ইতিকাফ করার স্থানের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদার ক্রম রয়েছে। সওয়াবের দিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে মসজিদে হারাম, এরপর পর্যায়ক্রমে মসজিদে নববী ও মসজিদে আকসা। সাধারণ মুসল্লিদের জন্য যেকোনো জামে মসজিদ বা পাঞ্জেগানা মসজিদে ইতিকাফ করা বৈধ। তবে নারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়মটি কিছুটা আলাদা।
তারা ঘরের নির্দিষ্ট কোনো পবিত্র ও নির্জন স্থানে অবস্থান করে এই আমলটি সম্পন্ন করবেন। হাদিস ও ফিকাহর নির্ভরযোগ্য গ্রন্থগুলোতে ইতিকাফের স্থান নির্বাচনের বিষয়ে এই সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।এই ইবাদতের অন্যতম বড় বিশেষত্ব হলো এর মাধ্যমে মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর লাভের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশকে এই রাতের সন্ধানেই ইতিকাফ করতেন।
সাহাবীগণও তাঁর এই সুন্নতের একনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন। এক বছর কোনো বিশেষ কারণে ইতিকাফ করতে না পেরে পরবর্তী বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করে তা পূর্ণ করেছিলেন। এটি ইসলামের একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ নিদর্শন যা রমজানের বরকত ও ফজিলত লাভে মুমিনদের পূর্ণ সহায়তা করে।রাজধানীর জামিয়া মাহমুদিয়া যাত্রাবাড়ীর প্রধান মুফতি রেজাউল করীম আবরার এ প্রসঙ্গে জানান, ইতিকাফের মাধ্যমে একজন মুমিন অত্যন্ত পবিত্র ও গুনাহমুক্ত পরিবেশে থাকার সুযোগ পান।
মসজিদে অবস্থানকালীন প্রতিটি মুহূর্তই ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়, এমনকি যখন ব্যক্তি ঘুমিয়ে থাকে বা বিশ্রাম নেয়। এটি দুনিয়াবি ঝামেলা থেকে নিজেকে মুক্ত করে পুরোপুরি আল্লাহর কাছে সোপর্দ করার একটি আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া। এর ফলে মানুষের মন ও মননে গভীর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং রোজার প্রকৃত হক আদায় করা সহজ হয়। মূলত আত্মশুদ্ধি ও মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনই এই দীর্ঘ অবস্থানের প্রধান লক্ষ্য।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন