রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বিনিময় নিয়ে ইতিকাফ করা কি জায়েজ? জানুন ইসলামি বিধান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৫, ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম

বিনিময় নিয়ে ইতিকাফ করা কি জায়েজ? জানুন ইসলামি বিধান

ইতিকাফের ইসলামি বিধান

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যময় একটি আমল। মূলত রমজানের বরকত ও হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রাত লাইলাতুল কদরের অনুসন্ধান ও পূর্ণ ফজিলত লাভের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো ইতিকাফ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইতিকাফ নিয়ে একটি বিশেষ প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনে বারবার দেখা দেয়, আর তা হলো টাকার বিনিময়ে বা কোনো প্রকার পারিশ্রমিকের মাধ্যমে ইতিকাফ করা কি জায়েজ? 

ইসলামি শরিয়তের আলোকে এ বিষয়টি অত্যন্ত পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন যাতে ইবাদতের নামে কোনো ভুল আমল প্রচলিত না হয়।প্রখ্যাত ফুকাহায়ে কেরাম ও ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, টাকার বিনিময়ে ইতিকাফ করা বা কাউকে পারিশ্রমিক দিয়ে ইতিকাফে বসানো সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও শরিয়তবিরোধী কাজ। 

ফাতোয়া শামিসহ বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য ফতোয়ার কিতাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এভাবে অর্থের বিনিময়ে ইতিকাফ করালে মহল্লাবাসীর পক্ষ থেকে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ কিফায়ার দায়িত্ব পালন হবে না। 

অর্থাৎ, টাকার বিনিময়ে ইতিকাফ করা ইবাদত হিসেবে গণ্য হওয়ার পরিবর্তে গুনাহের কারণ হতে পারে এবং এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার কেউ দায়মুক্ত হতে পারবেন না। ইবাদত হতে হবে একান্তই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, যেখানে পার্থিব কোনো আর্থিক লেনদেনের বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।ইতিকাফের ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণী শুনিয়েছেন। হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মাত্র একদিন ইতিকাফ করবে, আল্লাহ তাআলা তার ও জাহান্নামের মাঝে তিনটি পরিখার সমান দূরত্ব তৈরি করে দেবেন। 

প্রতিটি পরিখার দূরত্ব হবে আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। এই বিপুল পুরস্কার লাভের আশায় মুমিনদের উচিত স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই ইবাদতে শরিক হওয়া। শুধু অর্থের লোভে বা সামাজিক প্রথা পালনের জন্য ভাড়া করা ব্যক্তি দিয়ে এই ইবাদত করানো ইসলামের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী বলে আলেমগণ মনে করেন।

ইতিকাফের এই বিধান শুধু পুরুষদের জন্যই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নারীদের জন্যও ঘরোয়া পরিবেশে ইতিকাফ করার বিশেষ অবকাশ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র স্ত্রীগণ তাঁর জীবদ্দশায় এবং তাঁর ইন্তেকালের পরেও পবিত্র রমজান মাসে নিয়মিত ইতিকাফ করেছেন বলে বুখারি ও মুসলিম শরিফের একাধিক হাদিসে প্রমাণিত। তাই পবিত্র রমজানের শেষ দশকের গুরুত্ব অনুধাবন করে দুনিয়াবি স্বার্থ ত্যাগ করে সঠিক নিয়মে ইতিকাফ করার মাধ্যমেই একজন মুমিন প্রকৃত আধ্যাত্মিক সাফল্য অর্জন করতে পারেন।