রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রমজানে মা-বাবার সেবায় জান্নাত লাভের বিশেষ সুযোগ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৮, ২০২৬, ১০:১৪ এএম

রমজানে মা-বাবার সেবায় জান্নাত লাভের বিশেষ সুযোগ

মা-বাবার সেবায় জান্নাত

পবিত্র রমজান মাস রহমত বরকত ও মাগফিরাতের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়। এই মাসে সিয়াম সাধনা ও তিলাওয়াতের পাশাপাশি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম বড় মাধ্যম হলো জন্মদাতা মা-বাবার সেবা করা। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন ওই ব্যক্তির নাক ধূলিধূসরিত হোক যার কাছে রমজান মাস এলো অথচ সে নিজের গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারল না। 

একই হাদিসে তিনি আরও বলেছেন সেই ব্যক্তির নাকও ধূলিধূসরিত হোক যে তার বৃদ্ধ মা-বাবাকে পেল অথচ তাদের সেবা করে জান্নাত নিশ্চিত করতে পারল না। এই হাদিসটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে রমজান মাস কেবল তসবিহ পাঠের সময় নয় বরং এটি মা-বাবার হক আদায়ের মাধ্যমে পরকালীন মুক্তির পথ সুগম করারও মাস।

ইসলামি জীবনদর্শনে মা-বাবার মর্যাদা এতটাই উচ্চে যে মহান আল্লাহর ইবাদতের পরপরই তাদের প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা ইসরার ২৩ ও ২৪ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে যে তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন তাকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করতে এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে। 

বিশেষ করে তারা যখন বার্ধক্যে উপনীত হন তখন তাদের প্রতি অত্যন্ত বিনয়ী ও ধৈর্যশীল হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন তাদের সামনে উফ শব্দটিও না বলতে এবং তাদের সঙ্গে সম্মানজনক ভাষায় কথা বলতে। মা-বাবার প্রতি এমন বিনয় ও ভালোবাসা প্রদর্শনের মধ্যেই জান্নাতের চাবিকাঠি নিহিত রয়েছে। তারা খুশি থাকলে মহান আল্লাহ খুশি হন আর তারা বিমুখ হলে জান্নাত পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।মা-বাবার সেবার সুফল কেবল পরকালেই সীমিত নয় বরং এই পার্থিব জীবনেও এর প্রভাব অনস্বীকার্য। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের জীবনের একটি ঘটনা এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করার মতো। 

একবার তার মা তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিনয়ী হতে বললে তিনি বলেছিলেন যে প্রেসিডেন্টদের জন্য কি জান্নাত হারাম করা হয়েছে? মায়ের প্রতি এই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাই তাকে আজ বিশ্বনেতার আসনে সমাসীন করেছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকও তার এবং তার সেনাপ্রধান ভাইয়ের সাফল্যের রহস্য হিসেবে মা-বাবার দোয়ার কথা বারবার তুলে ধরেছেন। সফল ও সার্থক মানুষের জীবনের পরতে পরতে মা-বাবার দোয়ার এক বিশাল অবদান থাকে যা তাদের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিজীবনকে সাফল্যমণ্ডিত করে।

সন্তান হিসেবে আমাদের অনুধাবন করা উচিত শৈশবে মা-বাবা আমাদের জন্য যে অবর্ণনীয় ত্যাগ স্বীকার করেছেন। নিজেদের শত কষ্ট সয়েও তারা সন্তানকে হাসি-খুশি রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তাদের সেই ঋণের বোঝা কোনোভাবেই শোধ করা সম্ভব নয়। পবিত্র কোরআনে মা-বাবার জন্য দোয়া করার এক চমৎকার পদ্ধতি শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে রব্বির হামহুমা কামা রব্বাইয়ানি সগিরা। এর অর্থ হলো হে আমার প্রতিপালক তাদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন যেভাবে তারা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন। প্রতিদিনের ইবাদতে এই দোয়ার মর্ম উপলব্ধি করা এবং বাস্তব জীবনে তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন করাই প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

চলমান রমজানে সিয়াম সাধনার এই পবিত্র মুহূর্তে আমাদের উচিত মা-বাবার প্রতি সর্বোচ্চ যত্নশীল হওয়া। তারা যদি বার্ধক্যে উপনীত হন তবে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখা এবং তাদের অভাব অভিযোগগুলো হাসিমুখে পূরণ করা জরুরি। যাদের মা-বাবা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন তারা যেন এই মাসে নিয়মিতভাবে তাদের কবরের আজাব মাফ ও জান্নাতুল ফেরদাউস লাভের জন্য প্রার্থনা করেন। মনে রাখতে হবে মা-বাবাই হলো সন্তানের জন্য জান্নাতের সবচেয়ে বড় দরজা। এই দরজাকে কাজে লাগিয়েই আমাদের পরকালীন মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।