বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শবে কদরে করণীয় ও বর্জনীয় আমল সম্পর্কে জানুন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১২, ২০২৬, ০১:২৪ পিএম

শবে কদরে করণীয় ও বর্জনীয় আমল সম্পর্কে জানুন

শবে কদরের ইবাদত

ইসলামি শরিয়তে শবে কদর বা লাইলাতুল কদর সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ একটি রাত। ফারসি শব্দ ‍‍`শব‍‍` অর্থ রাত এবং ‍‍`কদর‍‍` অর্থ সম্মান বা ভাগ্য নির্ধারণ। পবিত্র কোরআনের বর্ণনামতে এই একটি রাত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এই মহিমান্বিত রজনীতে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও মাগফিরাত অর্জনের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট আমল রয়েছে যা পালন করা প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই ইবাদতের মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে মাগরিবের নামাজের পর থেকেই নফল নামাজ আদায় এবং পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে রাতটি অতিবাহিত করা উত্তম। 

এই রাতে বেশি বেশি জিকির-আজকার, দরুদ পাঠ এবং বিগত জীবনের গুনাহের জন্য কান্নাকাটি করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা প্রধান আমল হিসেবে বিবেচিত হয়। কোনো মানুষকে অতীতে কষ্ট দিয়ে থাকলে তার কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং অসহায়দের মাঝে বেশি বেশি দান-সদকা করার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা যায়। 

পাশাপাশি মা-বাবা ও মুরব্বিদের কবর জিয়ারত করা এবং সবার সাথে উত্তম আচরণ করাও এই রাতের ইবাদতের অংশ।তবে ইবাদতের এই পবিত্র রাতে কিছু বর্জনীয় কাজ থেকেও দূরে থাকা একান্ত আবশ্যক। অনেক সময় দেখা যায় মানুষ অবহেলা বা আলসেমি করে কেবল ঘুমিয়ে এই মহামূল্যবান সময়টি কাটিয়ে দেন যা মোটেও কাম্য নয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইবাদতের পরিবেশ নষ্ট করে দলবেঁধে আড্ডাবাজি, অহেতুক হৈ-হুল্লোড় কিংবা আতশবাজি ও পটকা ফুটিয়ে হৈচৈ করা হয় যা সম্পূর্ণ শরিয়ত পরিপন্থী। 

শবে কদরের রাতে মনের ভেতর কারো প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ রাখা উচিত নয় এবং যাবতীয় গুনাহের কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখা প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে এই রাতের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান তাই প্রতিটি সেকেন্ড ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের মধ্যেই প্রকৃত সফলতা নিহিত। অকারণে সময় নষ্ট না করে একান্ত চিত্তে মহান রবের ধ্যানে মশগুল থাকাই হলো এই রাতের সার্থকতা।