রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কোরবানির পশু কেনার সময় এই ৪ বিষয় অবশ্যই দেখবেন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১০, ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

কোরবানির পশু কেনার সময় এই ৪ বিষয় অবশ্যই দেখবেন

পশুর সুস্থতা যাচাই

ইসলামে সামর্থ্যবানদের জন্য কোরবানি আদায় করা ওয়াজিব। কোরবানি শুধু একটি প্রথা নয়, এটি মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই কোরবানির পশু ক্রয়ের ক্ষেত্রে শারীরিক সুস্থতা ও নিখুঁত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। শরিয়তের নির্দেশনা মোতাবেক পশুর ৪টি বড় ত্রুটি থাকলে কোরবানি সহিহ হবে না।

১. চোখে স্পষ্ট ত্রুটি থাকা: পশুর চোখ একেবারে কোটরের ভেতরে ঢুকে যাওয়া কিংবা অস্বাভাবিকভাবে বের হয়ে থাকা বা সাদা হয়ে যাওয়া—এমন পশু কোরবানির উপযোগী নয়। চোখে সুস্পষ্ট সমস্যা থাকলে সেই পশু কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে।

২. সুস্পষ্ট রুগ্নতা: যে রোগের প্রতিক্রিয়া পশুর শরীরে স্পষ্ট ফুটে ওঠে, যেমন—তীব্র জ্বর, যার ফলে পশু খাবার খেতে চায় না বা চলাফেরা করে না। এছাড়া পশুর গোশত বা চামড়া নষ্ট করে দেয় এমন চর্মরোগ থাকলেও তা দিয়ে কোরবানি হবে না।

৩. স্পষ্ট খোঁড়া হওয়া: যে পশু স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারে না বা হাঁটতে গিয়ে পা টেনে চলে, এমন স্পষ্ট খোঁড়া পশু দিয়ে কোরবানি করা জায়েজ নয়।

৪. জীর্ণ-শীর্ণতা ও অতি দুর্বলতা: পশুটি যদি দেখতে অত্যন্ত অসুস্থ, জীর্ণ-শীর্ণ এবং হাড্ডিসার হয় যে তার হাড়ের ভেতরে মগজ নেই—এমন পশু কোরবানির জন্য অনুপযুক্ত।

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল:

দাঁত: যে পশুর একটি দাঁতও নেই বা এত বেশি দাঁত পড়ে গেছে যে খাবার চিবাতে পারে না, এমন পশু দিয়ে কোরবানি হবে না।

শিং: শিং যদি একেবারে গোড়া থেকে ভেঙে গিয়ে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে সেই পশু পরিহার করতে হবে। তবে সামান্য ভাঙা বা জন্মগতভাবে শিং না থাকলে অসুবিধা নেই।

লেজ ও কান: পশুর লেজ বা কান যদি অর্ধেক বা তার বেশি কাটা থাকে, তবে তা কোরবানিযোগ্য নয়। তবে জন্মগতভাবেই কান ছোট হলে তা দোষের নয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এই ত্রুটিগুলো এড়িয়ে চলার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোত্তম ও নিখুঁত পশু দিয়েই কোরবানি আদায় করা মুমিনের দায়িত্ব।